কাজে আসছে না চট্টগ্রামের ৩ ট্রমা সেন্টার

মহাসড়কে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছিল তিনটি ট্রমা সেন্টার। তবে জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এসব সেন্টার এখনও চালু করা যায়নি।

অব্যবস্থাপনা ও সমস্যাগ্রস্ত সেন্টারগুলো

১. হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার:

  • ব্যয়: প্রায় ১২ কোটি টাকা।
  • উদ্বোধন: ৪ এপ্রিল, ২০২১।
  • অবস্থা: প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় তিন বছরেও কার্যক্রম শুরু হয়নি।
  • ক্ষতি: চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রায় ১০০ জন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন, যাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
  1. রাউজান ট্রমা সেন্টার:
    • ব্যয়: ১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
    • উদ্বোধন: ১৭ অক্টোবর, ২০২৩।
    • অবস্থা: দুটি আবাসিক ভবনসহ চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ।
    • প্রভাব: চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের দুর্ঘটনায় আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
  2. লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার:
    • ব্যয়: ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
    • উদ্বোধন: ২০১৩।
    • অবস্থা: ১০ বছর ধরে জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে কার্যক্রম বন্ধ।
    • ক্ষতি: দুর্ঘটনার পর আহতদের আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা দূরের চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি

চট্টগ্রামের তিনটি ট্রমা সেন্টারে প্রতিটির জন্য ২০ শয্যা বরাদ্দ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ৩৬টি পদের মধ্যে কেউই নিয়োগ পাননি। চিকিৎসা সরঞ্জাম বা অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জামও সেন্টারগুলোতে পাঠানো হয়নি।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

  • অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া মনোভাব।
  • আইন না মানা ও সড়কের অব্যবস্থাপনা।
  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সড়কের ত্রুটি।

ট্রমা সেন্টারের গুরুত্ব

চিকিৎসকদের মতে, দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জরুরি সেবার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট বা ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে সঠিক সেবা পেলে মৃত্যুহার কমানো যায় এবং রোগীদের পঙ্গুত্ব এড়ানো সম্ভব।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান,

“পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে ট্রমা সেন্টারগুলো চালু করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে সেন্টারগুলো চালু করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব ট্রমা সেন্টার চালু করা অত্যন্ত জরুরি। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য এই সেন্টারগুলো চালু করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা।