কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনের ট্রিপ বাড়ানোর প্রস্তাব
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত স্পেশাল ট্রেনের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। বিদ্যমান ট্রেন দিনে দুইবারের পরিবর্তে চারবার চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে যাত্রীচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পর্যটন খাত সমৃদ্ধ হবে এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম গত ১১ ডিসেম্বর রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিদ্যমান স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের অনুরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
নতুন ট্রিপ পরিকল্পনা (প্রস্তাবিত):
- প্রথম ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে সকাল ৬:৩০ টায়, কক্সবাজার পৌঁছাবে সকাল ১০:০০ টায়।
- কক্সবাজার থেকে ফিরবে সকাল ১০:২০ টায়, চট্টগ্রামে পৌঁছাবে দুপুর ২:১৫ টায়।
- দ্বিতীয় ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে দুপুর ২:৪৫ টায়, কক্সবাজার পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬:৩৫ টায়।
- কক্সবাজার থেকে ফিরবে সন্ধ্যা ৭:০০ টায় এবং চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ১০:৩০ টায়।
পর্যটন ও স্থানীয়দের সুবিধা
- বর্তমান চ্যালেঞ্জ:
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পান মাত্র ১১৫ জন যাত্রী। ফলে টিকিট সংকটে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। - স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নতুন ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। বিদ্যমান ট্রেন বিরতিহীন হওয়ায় দোহাজারী-কক্সবাজার রুটের সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব:
- বিদ্যমান ট্রেন ও জনবল ব্যবহার করেই ট্রিপ বাড়ানো হবে।
- পর্যটন মৌসুমে চাহিদা মেটাতে নতুন ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
- ঈদযাত্রায় চালু হওয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনের গুরুত্ব:
২০২৩ সালের নভেম্বরে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধনের পর প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন চালু হয়। তবে যাত্রীচাহিদা মেটাতে বিদ্যমান ট্রেন সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। নতুন ট্রেন চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটক উভয়েরই উপকার হবে।