রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের সহায়তায় জাপান ও ইউনিসেফের চুক্তি

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা জোরদার করতে জাপান সরকার এবং ইউনিসেফ ৩.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে আজ (০৪ মার্চ, ২০২৫)। এই অনুদানের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ৬৫,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা এবং পানি ও স্যানিটেশন (WASH) সেবা পাবে।

ঢাকায় ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. সাইদা শিনিচি এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন,

“রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের জন্য ইউনিসেফ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন খাতে ইউনিসেফের প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফকে আরও শক্তিশালীভাবে সহায়তা করতে পারবো।”

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন,

“প্রতিদিন রোহিঙ্গা শিশুরা চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। তারা পর্যাপ্ত শিক্ষা পাচ্ছে না, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, এবং পানিবাহিত রোগ ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। জাপান সরকারের এই সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মুহূর্তে এসেছে, যা রোহিঙ্গা শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

রোহিঙ্গা সংকট ও জাপানের অবদান

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক নিপীড়নের শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী সংকট হিসেবে পরিগণিত হয়। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শিশু বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে, যেখানে তারা সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

May be an image of 2 people and text

জাপান সরকার ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশে জাতিসংঘ ও এনজিও সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করেছে। ইউনিসেফ, বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার সঙ্গে কাজ করে, রোহিঙ্গা শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য, শিক্ষা ও পানীয় জলের নিশ্চয়তা বিধানে কাজ করছে।