মালয়েশিয়াজুড়ে টার্গেটেড স্ট্রাইক অপারেশন

মালয়েশিয়াজুড়ে সমন্বিত অভিবাসন অভিযানে ‘টার্গেটেড স্ট্রাইক অপারেশন’ পরিচালনা করে অন্তত ৪৫০ জন বাংলাদেশিসহ ১,২৭০ জন বিদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মালয়েশিয়ার ১৫টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থান জুড়ে আজ এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেয় শতাধিক অভিবাসন কর্মকর্তা।

জোহর, কুয়ালালামপুর, পেরাক, তেরেঙ্গানু, কেলান্তান, সাইবারজায়া, সেলাঙ্গর, পেনাং, নেগেরি সেমবিলানসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন, কাজের অনুমতিপত্র না থাকা, পাসের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং কাজের পাসের অপব্যবহার-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।

জোহরে সবচেয়ে বড় অভিযান: আটক ২৩৯ বাংলাদেশি

জোহর রাজ্যে একযোগে জোহর বারু, মুআর, সেগামাত, মেরসিং ও বাতু পাহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করে ৩৩০ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ২৩৯ জনই বাংলাদেশি, যাদের বয়স ২০ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে।

জোহর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, এদের মধ্যে একজন ৫০ বছর বয়সী মালয়েশিয়ান নির্মাণ ব্যবস্থাপককেও আটক করা হয়েছে, যিনি অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কাদা পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি

রাজধানীর জালান কুচিং এলাকার এক নির্মাণস্থলে অভিযানের সময় দুজন বাংলাদেশি পালাতে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন। তবে তাদের আটক করা হয়। সেখানে ৪১ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশিয়ান, একজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক আটক হন।

অন্যান্য রাজ্যে আটক ও তথ্য:

  • কেলান্তান: ১ ইন্দোনেশিয়ান নারী ১ মাসের সন্তানসহ কুবাং কেরিয়ানে ৯১ জন আটক।

  • তেরেঙ্গানু (কেমামান): ৩৫ জন বাংলাদেশিসহ ৩৯ জন আটক।

  • লাবুয়ান: ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ান নারীসহ ২০ জন।

  • পাহাং (রাউব): ৩৫ জন।

  • পেরাক (ইপোহ বারচাম): ৯২ জন; এর মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি।

  • সাইবারজায়া: ১২৯ জন বিদেশি; বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনামের নাগরিক।

  • কেদাহ (চাংলুন, কুয়ালাল কেদাহ): ৬৪ জন।

  • নেগেরি সেমবিলান (বুকিত কাপায়াং): ১০২ জন; ২৯ জন বাংলাদেশি।

  • সেলাঙ্গর (শাহ আলম): ৬২ জন; বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও পাকিস্তানিরা।

  • পেনাং (বের্তাম, বায়ান লেপাস): ১৬ জন আটক; ৫ জন বাংলাদেশি।

এছাড়া ১১ জন মালয়েশিয়ান নিয়োগকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও আশ্রয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব মালয়েশিয়ান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

সব আসামিকে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন ও ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অভিযানের তদারক কর্মকর্তা ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ জানান,

“আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় অভিবাসীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করছি, কিন্তু আইনের প্রতি কোনো ছাড় নেই।”