সাবধান! আপনার আপত্তিকর ছবি ভেসে উঠবে স্ক্রিনে

সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল্যাক্স মুডে স্ক্রল করছিলেন, হঠাৎ থামতে হলো। চোখের সামনে ভেসে উঠেছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আপত্তিকর একটি ছবি বা ভিডিও—যেখানে মুখটি আর কারও নয়, আপনার নিজের! আর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ল সহপাঠী, সহকর্মী এবং আত্মীয়-স্বজনদের ইনবক্সে ও টাইমলাইনে। কেমন হবে তখন আপনার মানসিক অবস্থা? কল্পনা করতেই কি পুরো শরীর শিউরে উঠছে না? রূপকথার কোনো দুঃস্বপ্ন নয়, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্পোরেট জগতের নারী—যাঁরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এআই ফিল্টার ও ফটো এডিটিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তাঁদের জীবনের বাস্তবতা কিন্তু এমনই এক ভয়াবহ ডিজিটাল ফাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে মেকআপ ফিল্টার, ফেস-সোয়াপ কিংবা গ্ল্যামারাস বিউটি অ্যাপের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই রঙিন ফিল্টারগুলোর আড়ালে যে কত বড় বিপদ ওঁৎ পেতে আছে, তা আমরা প্রায় কেউই টের পাই না। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে আকর্ষণীয় যেকোনো বিউটি অ্যাপ ইনস্টল করার সময়ই ব্যবহারকারীর কাছে চাওয়া হয় ‘Allow Access to Gallery & Camera’। অ্যাপটি দ্রুত ব্যবহারের উত্তেজনায় কোনো কিছু না ভেবেই ‘Allow’ অপশনে ক্লিক করে দিই আমরা। আর এই এক ক্লিকেই আমরা নিজ হাতে নিজেদের ঘরের চাবি তুলে দিই অসাধু হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীদের হাতে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যামেরা ও গ্যালারির এই চোখ বুজে দেওয়া পারমিশন ব্যবহার করে থার্ড-পার্টি অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় সক্রিয় থাকে। ফলে আপনার স্মার্টফোনে থাকা একান্তই ব্যক্তিগত ছবি, এমনকি মুছে ফেলা ফাইলগুলোও গোপনে তাদের সার্ভারে ট্রান্সফার হয়ে যায়। পরবর্তীতে এসব ছবি চলে যায় ডার্ক ওয়েবে, কিংবা আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো বিকৃত ও নগ্ন রূপ দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সামান্য একটি সুন্দর ফিল্টার ব্যবহার করার শখ কীভাবে একজন নারীর সম্মান, মানসিক শান্তি এবং পুরো জীবনকে এক মুহূর্তে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে—তা ভাবার সময় এখনই এসেছে। প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ, অপরিচিত বা অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অ্যাপ ইনস্টলের সময় গ্যালারি ও ক্যামেরার অপ্রয়োজনীয় পারমিশন অফ রাখতে হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত ছবি আপলোডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ আপনার সামান্য একটু অসচেতনতাই ডেকে আনতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয়।