চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে তীব্র জ্বর ও হাড় ব্যথা

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং তীব্র গরম ও আকস্মিক বৃষ্টির দোলাচলে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র জ্বর, কফ ও শুষ্ক কাশির প্রকোপ। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের মাঝেই হাত-পা ও হাড় কামড়ানো তীব্র ব্যথাসহ ধুম জ্বর দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মৌসুমী ভাইরাসের পাশাপাশি ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল ও চেম্বারগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তন এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়াকেই এই ভাইরাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বাড়ি বাড়ি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেকের শ্বাসতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়ছে, ফলে জ্বরের সাথে তীব্র গলার ব্যথা, শুষ্ক কাশি এবং কফ জমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জরুরি চিকিৎসা পরামর্শ:

  • শুরুতেই ডেঙ্গু পরীক্ষা: জ্বর আসার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এনএস-১ (NS1) ও সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। কোনোভাবেই সাধারণ ভাইরাল ফিভার ভেবে অবহেলা করা যাবে না।

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার: আক্রান্ত রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি, ডাবের পানি, খাওয়ার স্যালাইন, লেবুর শরবত ও স্যুপ জাতীয় তরল খাবার প্রচুর পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

  • বিপদচিহ্ন লক্ষ্য রাখা: জ্বরের সাথে অনবরত বমি, পেটে তীব্র ব্যথা, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং শরীর অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

  • মশারি ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বাসাবাড়ির টব, এসি বা পাত্রে জম জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং শুরুতেই রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রক্তের পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।