চট্টগ্রামজুড়ে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং

চট্টগ্রাম নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে ১৫টি উপজেলায় গত প্রায় পনেরো দিন ধরে চলছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট। ঘন ঘন ও দীর্ঘমেয়াদি লোডশেডিংয়ের কারণে থমকে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন। একদিকে গরমের তীব্রতা, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থী, কোমলমতি শিশু ও বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসাধীন রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর, মুরাদপুর, বাকলিয়া, পাথরঘাটা, জামালখান, সদরঘাট, আকবর শাহ ও বায়েজিদসহ প্রধান প্রধান আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দিনে-রাতে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে জেলার আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, কর্ণফুলী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, লোহাগাড়া, মীরসরাই, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া ও সীতাকুণ্ড উপজেলাগুলোতেও। গ্রামগুলোতে অবস্থা আরও করুণ; দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব

বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সামনে বিভিন্ন পাবলিক ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন কর্মজীবনে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন বাসা-বাড়িতে থাকা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা শিশু এবং প্রবীণ রোগীরা।

অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ অপচয়

বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে পাওয়ার গ্রিডের ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় কিছু অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছেন সচেতন নগরবাসী। নগরের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত হাজার হাজার রিকশা চার্জ দেওয়া, ফুটপাতে রাস্তার ভাসমান দোকানপাটে অবৈধ সংযোগ দিয়ে শক্তিশালী বাতি চালানো এবং চোরাই লাইনের কারণে সিস্টেম লস ও লোড বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ। এসব অবৈধ ব্যবহারের কারণে বৈধ গ্রাহকরা চরম মাশুল গুনছেন।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় তারা কোনো কাজই সময়মতো করতে পারছেন না। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ উচ্ছেদে কঠোর অভিযানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামবাসী।