অপচয় রোধ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তবে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু মজুতই যথেষ্ট নয়; বরং সুষ্ঠু সংরক্ষণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর, ২০২৬) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাইলো পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং হালিশহর সিএসডির আধুনিক সম্মেলনকক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আসন্ন পবিত্র রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অপচয় রোধ এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা, গুদামের ধারণক্ষমতা ও সরবরাহ সক্ষমতা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে। খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সঠিক সমন্বয় করা গেলে সময়ক্ষেপণ, পরিবহন খরচ এবং অপ্রয়োজনীয় খাদ্য অপচয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও বাজারদর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দেশে খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও অস্থিরতা বিবেচনা করে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। আমদানি কার্যক্রমের জটিলতা নিরসন করে নির্ধারিত সময়ে খাদ্য দেশে পৌঁছানো এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্য ধরে রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়েছে। গুদামগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা, নির্ভুল হিসাব রাখা এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা স্থাপনাগুলোকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য তিনি কড়া নির্দেশ দেন।
ইভেন্ট ও পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।