মা ইলিশ সংরক্ষণে সাগরে ও উপকূলে নৌবাহিনীর জোরদার অভিযান
জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও অবাধ বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে সরকারঘোষিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সমুদ্র, উপকূলীয় এলাকা এবং অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে নৌবাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের অধীনস্থ ‘নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট চাঁদপুর’ জেলার আনন্দবাজার, দাশাদি খাল, শহর মালি, লালপুর, ৩ নম্বর কয়লা ঘাট, চাঁদপুর মোহনা, গাজীর টেক, মিয়ার বাজার, কানুদি ও আমিরাবাদসহ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের দায়ে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আইন অনুযায়ী জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
নৌবাহিনীর তথ্যমতে, পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৭০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ২২টি অন্যান্য বিশেষ জাল জব্দ করা হয়েছে। ধ্বংসকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ২২ দিনব্যাপী বিশেষ নিষেধাজ্ঞা অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই নির্ধারিত সময়ে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকায় সব ধরণের মাছ ধরাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলসম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বোট ও বিশেষ কন্টিনজেন্টের মাধ্যমে এই টহল ও তদারকি ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিষেধাজ্ঞা সফল হলে বঙ্গোপসাগর ও দেশের নদীগুলোতে ইলিশের উৎপাদন লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।