চট্টগ্রামে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

মাসখানেক ধরে চট্টগ্রামজুড়ে অব্যাহত রয়েছে ৩০ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরম। কার্তিক মাস পেরিয়ে শীতের আগমনী বার্তা থাকার কথা থাকলেও অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই চরম শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি ও অলসতায় ভুগছেন। তবে গরমের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়লেও, অসুস্থতার মূল কারণ পর্যাপ্ত পানি না পান করা বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, শত টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখানো কিংবা হাজার টাকার ওষুধপত্র কিনতে মানুষের অনীহা না থাকলেও, অসুস্থতা এড়াতে দৈনিক পরিমিত পানি পানের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে চরম অবহেলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে প্রতিনিয়ত ঘামের সাথে বিপুল পরিমাণ পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়। নিয়মিত পানি পান না করলে শরীরে যেসব মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়:

  • ডিহাইড্রেশন ও শারীরিক নিস্তেজতা: মানবদেহের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। পানির ঘাটতি দেখা দিলে রক্ত ঘন হয়ে পড়ে এবং কোষে অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়। ফলে হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত খাটতে হয়, যা দ্রুত শরীরে চরম ক্লান্তি ও বুক ধড়ফড় তৈরি করে।

  • ‘ডিহাইড্রেশন ফিভার’ বা পানিশূন্যতাজনিত জ্বর: শিশু ও প্রবীণদের শরীরে পানির ঘাটতি হলে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে জ্বর আসে, যা মূলত সাধারণ সংক্রমণ নয় বরং পানিশূন্যতাজনিত জ্বর।

  • কিডনি ও ইউরিনারি ট্র্যাক্টের ক্ষতি: পর্যাপ্ত পানি না খেলে প্রস্রাবের ঘনত্ব বেড়ে গাঢ় হলুদ আকার ধারণ করে, যা পরবর্তীতে কিডনিতে পাথর ও প্রস্রাবে মারাত্মক সংক্রমণের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও করণীয়:

এই তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বা কোমল পানীয়ের ওপর নির্ভর না হয়ে বিশুদ্ধ পানির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

১. পরিমিত পানি পান: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে কিছুক্ষণ পর পর পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

২. প্রাকৃতিক তরল খাবার: ঘামের সাথে বেরিয়ে যাওয়া সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও খাবার স্যালাইন অত্যন্ত কার্যকরী।

৩. কোমল পানীয় বর্জন: প্রসেসড জুস, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা কফি সাময়িক প্রশান্তি দিলেও তা শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করে ফেলে।

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেছেন, হাজার টাকার প্রেসক্রিপশন কিংবা অ্যান্টিবায়োটিক কখনোই পানির বিকল্প হতে পারে না। এই গরমে পানিশূন্যতা রোধে পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা এবং নিয়মিত পানি পানের বিকল্প নেই।