দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষা) বাংলাদেশে পা রেখেছে এবং এটি ইতিমধ্যেই বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সিনপটিক অবস্থা অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে এই মৌসুমী বায়ু আরও অগ্রসর হয়ে সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। এর প্রভাবে আজ ৯ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে।
পূর্বাভাসের প্রথম দিন অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার দেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আজ কিছুটা বিস্তার লাভ করতে পারে। ফলে আজ দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
তবে দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১০ জুন বুধবার থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। বুধবার সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বাকি সব বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বজ্রবৃষ্টির পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে চলমান তাপপ্রবাহ কিছু কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হবে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তৃতীয় দিন (১১ জুন) থেকে বৃষ্টিপাতের দাপট আরও বাড়ার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এরপর শুক্র ও শনিবার (১২ ও ১৩ জুন) দেশের প্রায় সব বিভাগেরই (রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট) অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ধেয়ে আসতে পারে, তবে এই সময়ে খুলনা বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম (কিছু কিছু জায়গায়) হতে পারে। এই শেষ দুই দিনেও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে এবং শুক্রবারের দিকে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই ১২০ ঘণ্টার পরবর্তী বর্ধিত ৫ দিনেও দেশে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
