Home » পাহাড় ও সাগরের মিশেলে আলবেনিয়ার মায়াবী উপাখ্যান

পাহাড় ও সাগরের মিশেলে আলবেনিয়ার মায়াবী উপাখ্যান

by দাঊদ আরমান
0 comments 51 views
A+A-
Reset
পাহাড় আর সাগরের মায়াবী উপাখ্যান: আলবেনিয়ার ৫টি অজানা রহস্য

ইউরোপের মানচিত্রে চোখ বোলালে ইতালির ঠিক উল্টো পাশে ছোট্ট এক টুকরো স্বর্গীয় দেশ চোখে পড়ে— আলবেনিয়া। বলকান অঞ্চলের এই দেশটি দীর্ঘকাল বাকি পৃথিবী থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু বর্তমানে এর স্ফটিক স্বচ্ছ নীল সমুদ্র আর রুক্ষ পাহাড়ের মায়াবী হাতছানি পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, আলবেনিয়ার সংস্কৃতি আর ইতিহাসে এমন কিছু অদ্ভুত ও চমকপ্রদ তথ্য মিশে আছে, যা শুনলে আপনি বিস্ময়ে বিমূঢ় হতে বাধ্য হবেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক রহস্যময় আলবেনিয়ার ৫টি অজানা তথ্য:

‘হ্যাঁ’ মানে ‘না’, আর ‘না’ মানে ‘হ্যাঁ’!

আলবেনিয়ায় গিয়ে যদি কাউকে কোনো প্রশ্ন করেন, তবে সাবধান! কারণ তাদের মাথা নাড়ানোর ভঙ্গি আমাদের চেয়ে একদম উল্টো। আলবেনিয়ানরা যখন মাথা ওপর-নিচ করে নাড়ায় (যা সাধারণত ‘হ্যাঁ’ বোঝায়), তারা আসলে বোঝাতে চায় ‘না’। আবার যখন ডানে-বামে মাথা নাড়ায়, তখন তার অর্থ দাঁড়ায় ‘হ্যাঁ’। পর্যটকদের জন্য এটি শুরুতে বেশ গোলমেলে মনে হতে পারে, কিন্তু এটিই তাদের শত বছরের পুরনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

বাংকারের দেশ

আলবেনিয়ার স্থলভাগ থেকে শুরু করে সমুদ্রসৈকত—সবখানেই অদ্ভুত সব গম্বুজাকৃতির কংক্রিটের কাঠামো চোখে পড়বে। এগুলো আসলে সামরিক বাংকার। দেশটির প্রাক্তন একনায়ক এনভার হোক্সার আমলে সম্ভাব্য বিদেশি আক্রমণের ভয়ে প্রায় ৭,০০,০০০-এর বেশি বাংকার তৈরি করা হয়েছিল। যদিও কখনো যুদ্ধ হয়নি, কিন্তু এই বাংকারগুলো আজও আলবেনিয়ার ল্যান্ডস্কেপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। বর্তমানে অনেক বাংকারকে ক্যাফে, স্টোররুম বা মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

Hidden in the Hills: The Silent Disappearance of Albania's Bunkers

অতিথির জন্য জীবন বাজি: ‘বেশা’ (Besa)

আলবেনিয়ানদের একটি প্রাচীন জীবনদর্শন হলো ‘বেশা’। এর শাব্দিক অর্থ ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা’। এই নীতি অনুযায়ী, একজন অতিথির সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাড়ির মালিকের পবিত্র দায়িত্ব। এমনকি যদি কোনো চরম শত্রুও তাদের ঘরে আশ্রয় চায়, আলবেনিয়ানরা নিজের জীবন দিয়ে হলেও তাকে রক্ষা করবে। এই ‘বেশা’ নীতির কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলবেনিয়া ছিল ইউরোপের একমাত্র দেশ, যেখানে ইহুদিদের জনসংখ্যা কমার বদলে বেড়েছিল। তারা নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক হাজার ইহুদি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল।

মাদার তেরেসার আদি নিবাস

অনেকেই মনে করেন মাদার তেরেসা ভারতীয় কিংবা মেসিডোনিয়ান। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, জাতিগতভাবে তিনি একজন আলবেনিয়ান। যদিও তার জন্ম বর্তমান উত্তর মেসিডোনিয়ায়, কিন্তু তার পরিবার ছিল আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত। আলবেনিয়ার একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামও রাখা হয়েছে তার সম্মানার্থে— ‘তিরানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নেনে তেরেসা’ (Nënë Tereza)।

সন্ধ্যার হাঁটার সংস্কৃতি: ‘শিরো’ (Xhiro)

আলবেনিয়ানদের সামাজিক জীবনের একটি দারুণ দিক হলো ‘শিরো’। এটি মূলত সন্ধ্যার একটি আনুষ্ঠানিক পায়চারি। সূর্যাস্তের পর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সব বয়সের মানুষ একসাথে হাঁটতে বের হয়। তারা গল্প করে, আইসক্রিম খায় আর প্রতিবেশীদের সাথে কুশল বিনিময় করে। অনেক শহরে এই সময় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে মানুষ শান্তিতে তাদের এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক মিলনমেলা উপভোগ করতে পারে।

Albanian women, Has

ইউরোপের এই “লুকানো রত্ন” আলবেনিয়া তার রহস্যময় ইতিহাস আর অমায়িক আতিথেয়তা নিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে সদা প্রস্তুত। আপনি কি কখনো এই অসাধারণ দেশটি ভ্রমণের কথা ভেবেছেন?

You may also like

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com