ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তিই হলো তাওহীদ বা একত্ববাদ—অর্থাৎ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহ তাআলা একক, অদ্বিতীয় এবং তাঁর কোনো শরিক বা অংশীদার নেই। এই বিশ্বাসের বিপরীত মেরুতে রয়েছে ‘শিরক’ বা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড়, নিকৃষ্ট এবং জঘন্যতম অপরাধ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করার গুনাহ ক্ষমা করবেন না; তবে এর চেয়ে ছোট যেকোনো গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করতে পারেন” (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। এই একটি আয়াতই প্রমাণ করে যে, একজন মানুষ তওবা না করে শিরকের গুনাহ নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে পরকালে তার জন্য ক্ষমার আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। অথচ আমাদের অবচেতন মন বা অসচেতনতার কারণে সমাজে নানারূপ শিরক প্রতিনিয়ত ডালপালা মেলছে; কেউ হয়তো আল্লাহর দেওয়া রিজিক, সন্তান বা রোগমুক্তির জন্য কোনো পীর, মাজার বা মানুষের দ্বারস্থ হচ্ছেন, কেউ আবার জ্যোতিষশাস্ত্র, রাশিফল বা ভাগ্য গণনার মতো কুসংস্কারে বিশ্বাস করে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করছেন।
এমনকি লোকদেখানো ইবাদত বা ‘রিয়া’ করাকেও ইসলামে ‘ছোট শিরক’ বা শিরকে আসগর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মানুষের পুণ্য বা আমলগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। মূলত শিরক করার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে এবং তার জীবনের পূর্ববর্তী সমস্ত ভালো কাজ বা নেক আমল পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়।
তাই ইহকালের শান্তি ও পরকালের চিরন্তন মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপন শিরকের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে, খাঁটি তাওহীদ ও তাকওয়া বুকে ধারণ করে সরাসরি শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই মাথা নত করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য।
