হাড় ও জয়েন্টের ব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই ব্যথা হলে বুঝে উঠতে পারেন না, ঠান্ডা দেবেন নাকি গরম ভাপ ব্যবহার করবেন। চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার ধরন ও সময়ের ওপর নির্ভর করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নতুন করে আঘাত পাওয়া, পড়ে গিয়ে মচকে যাওয়া কিংবা কোনো জায়গা হঠাৎ ফুলে ও লাল হয়ে গেলে প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা পানি বা বরফ ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর। ঠান্ডা ভাপ দিলে আক্রান্ত স্থানের রক্তনালী সংকুচিত হয়, ফলে ভেতরের রক্তক্ষরণ ও ফোলা কমে আসে এবং ব্যথার অনুভূতিও হ্রাস পায়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, বরফ সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে দিনে কয়েকবার ১০–১৫ মিনিট করে ব্যবহার করতে।
অন্যদিকে, যদি ব্যথাটি পুরনো হয় বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে—যেমন বাতের ব্যথা, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, কিংবা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ফলে পিঠ বা কোমরের ব্যথা—তবে গরম পানি বা গরম সেঁক বেশি উপকারী। গরম ভাপ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশিগুলোকে শিথিল করে, যার ফলে জয়েন্টের নড়াচড়া সহজ হয় ও ব্যথা কমে আসে।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব জায়গা ফুলে আছে বা লাল হয়ে গেছে, সেখানে কখনোই গরম ভাপ দেওয়া উচিত নয়। এতে প্রদাহ আরও বেড়ে যেতে পারে এবং ব্যথা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সঠিক সময়ে সঠিক ভাপ ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।