বিশ্বরাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন— হামাস যদি শান্তিচুক্তির শর্ত না মানে, তাহলে তিনি ইসরায়েলকে আবার গাজায় সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেবেন। তাঁর ভাষায়, “আমি বললেই ইসরায়েলি সেনারা আবার সড়কে নামবেন।”
ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অধীনে জিম্মি বিনিময় ও অস্ত্রত্যাগ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, হামাস মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত দেওয়ার শর্ত মানছে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহগুলো আটকে আছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা মনে করে না যে হামাস চুক্তিভঙ্গ করেছে— বরং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিশ্চয়তা এসেছে, বাকি মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে গাজায় হামাস ও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে গাজা হবে ‘নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল’, যেখানে হামাস প্রশাসনিক ভূমিকা রাখবে না, বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকারীদের ক্ষমা করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “যদি আমি বলি, ইসরায়েল আবার রাস্তায় নামবে— তারা নামবে। কিন্তু আমি চাই, এটি যেন শান্তিতেই শেষ হয়।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ৫৯টি দেশ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সমর্থন করছে, যা ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ।
ট্রাম্পের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্দেশ করছে। ইরানকে ‘সমস্যা নয়’ বলে ঘোষণা এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণের ইঙ্গিত— এসব মিলে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি করছে, যেখানে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর স্বার্থই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।