দীর্ঘতম দেশের রূপকথা: চিলির ৫টি অবিশ্বাস্য রহস্য
দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগর আর আন্দিজ পর্বতমালার মাঝে ফিতের মতো ঝুলে থাকা এক আশ্চর্য দেশ— চিলি (Chile)। উত্তর থেকে দক্ষিণের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এর দূরত্ব প্রায় ৪,৩০০ কিলোমিটার হলেও পূর্ব থেকে পশ্চিমের গড় দূরত্ব মাত্র ১৭৫ কিলোমিটার! পৃথিবীর দীর্ঘতম এই দেশটির বুক চিরে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি থেকে শুরু করে হিমবাহে ঢাকা নীল হ্রদ পর্যন্ত সব বৈচিত্র্য। আন্দিজের বরফশীতল হাওয়া আর প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউ চিলিকে দিয়েছে এক রূপকথার রূপ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বৈচিত্র্যময় চিলি সম্পর্কে ৫টি চমকপ্রদ তথ্য:
১. আতাকামা মরুভূমি: পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক জায়গা
চিলির উত্তর অংশে অবস্থিত আতাকামা মরুভূমি (Atacama Desert) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক এবং প্রাচীন অ-মেরু মরুভূমি। এখানকার কিছু অংশে শত শত বছরেও এক ফোঁটা বৃষ্টি হয়নি! মেঘহীন আকাশ এবং দূষণমুক্ত পরিবেশের কারণে এটি পৃথিবীর অ্যাস্ট্রোনমি বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের রাজধানী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপগুলো এই মরুভূমির ওপরেই স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে মহাশূন্যের গভীর রহস্য ভেদ করা হয়।
২. ইস্টার দ্বীপ ও রহস্যময় ‘মোয়াই’ মূর্তি
চিলির মূল ভূখণ্ড থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হলো ইস্টার দ্বীপ (Easter Island বা Rapa Nui)। এই দ্বীপটি তার রহস্যময় বিশাল সব পাথরের মূর্তি বা ‘মোয়াই’ (Moai)-এর জন্য বিশ্ববিখ্যাত। শত শত বছর আগে পলিনেশিয়ান আদিবাসীরা কীভাবে এই বিশালাকার পাথরগুলো কেটে সমুদ্রের তীরে স্থাপন করেছিল, তা আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক সমাধানহীন রহস্য।
৩. পাতাগোনিয়া এবং টোরেস দেল পাইনে ন্যাশনাল পার্ক
চিলির দক্ষিণ প্রান্তের অংশটি পাতাগোনিয়া (Patagonia) নামে পরিচিত, যা পৃথিবীর অন্যতম বন্য ও সুন্দর অঞ্চল। এখানকার ‘টোরেস দেল পাইনে ন্যাশনাল পার্ক’ (Torres del Paine National Park) তার আকাশছোঁয়া গ্রানাইট স্তম্ভ, নীল রঙের হিমবাহ হ্রদ এবং বন্য গুয়ানাকোর পালের জন্য বিখ্যাত। প্রকৃতিপ্রেমী ও ট্রেকারদের কাছে এটি পৃথিবীর অন্যতম লোভনীয় এক স্বর্গরাজ্য।
৪. ভ্যালপারাইসো: পাহাড়ের গায়ে রঙের মেলা
চিলির সাংস্কৃতিক রাজধানী হলো প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বন্দরনগরী ভ্যালপারাইসো (Valparaíso)। এই শহরের পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত রঙিন সব বাড়িঘর, আঁকাবাঁকা গলি আর পুরো শহরের দেওয়ালে আঁকা চোখ জুড়ানো গ্রাফিতি বা দেওয়ালচিত্রের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিখ্যাত নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদা এই শহরটির প্রেমে পড়েছিলেন এবং এখানেই তার একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রয়েছে।

চিলির সাংস্কৃতিক রাজধানী ভ্যালপারাইসো
৫. বিশ্বের বৃহত্তম সুইমিং পুল: সান আলফোনসো দেল মার
চিলির আলগাররো রিসোর্টে অবস্থিত সান আলফোনসো দেল মার (San Alfonso del Mar) নামক কৃত্রিম হ্রদটি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বিশ্বের বৃহত্তম সুইমিং পুল। এটি প্রায় ১,০১৮ মিটার দীর্ঘ এবং এর ভেতরে প্রায় ২৫ কোটি লিটার সমুদ্রের জল ফিল্টার করে ধরে রাখা হয়! পুলটির বিশালতা এতই বেশি যে এর ভেতর ছোট নৌকা বা কায়াক নিয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়ানো যায়।
চিলির এই আটাকামার আকাশভরা তারা আর ইস্টার দ্বীপের পাথরের মূর্তিগুলো কি আপনার মনে রোমাঞ্চ জাগিয়েছে? দক্ষিণ আমেরিকার এই দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় দেশটিতে ভ্রমণের অনুভূতি সত্যিই অনন্য।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।