চকবাজারে জাল নোট চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
উদ্ধার ১৩ হাজার ৫০০ টাকার জাল টাকা
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোটসহ জাল নোট কারবারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাতে সিএমপি চকবাজার থানার এসআই মো. গিয়াস উদ্দিন, এসআই সাইফ উদ্দিন মো. শাওন, এএসআই হুমায়ুন কবির, এএসআই চন্দন কুমার মজুমদার, এএসআই রাজিব হোসেন ও এএসআই মহিউদ্দিন সুমনসহ পুলিশের একটি চৌকস দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মো. পারভেজ (২৯) এবং তার সহযোগী মো. আলমগীর হোসেন (৩১)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটি চলাকালে এসআই মো. গিয়াস উদ্দিন গুলজার মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, কেয়ারী ইলিশিয়াম মার্কেটের সামনে রাস্তার ওপর স্থানীয় জনতা জাল টাকাসহ এক ব্যক্তিকে আটকে রেখেছে। সংবাদ পেয়েই পুলিশ দ্রুত রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং জনতার হেফাজত থেকে আসামি মো. পারভেজকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পারভেজের দেহ তল্লাশি করে তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১টি জাল নোট (সর্বমোট ১১,০০০ টাকা) এবং একটি নোকিয়া বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
আটককৃত পারভেজকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে এবং তার সহযোগী মো. আলমগীর হোসেন জাল টাকা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে উক্ত এলাকায় অবস্থান করছিল। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজকে সাথে নিয়ে তৎক্ষণাৎ চকবাজার কলেজ রোডস্থ গুলজার মোড়ের দক্ষিণ পাশে ‘বেক অ্যান্ড ফাস্ট’ দোকানের সামনে পাকা রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে আলমগীরের দেহ তল্লাশি করে তার প্যান্টের বাম পকেট থেকে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৫টি জাল নোট (সর্বমোট ২,৫০০ টাকা), ১০০ টাকা মূল্যমানের ২৩টি আসল নোট (সর্বমোট ২,৩০০ টাকা) এবং একটি কালো রঙের অপ্পো স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে অভিযানে মোট ১৩,৫০০ টাকার জাল নোট, ২,৩০০ টাকার আসল নোট এবং ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
চকবাজার থানা পুলিশ জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে জাল টাকা সংগ্রহ করে কেনাবেচার উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রেখে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-ক(খ) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে জাল নোটের উৎস ও এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।