অতিরিক্ত কসমেটিক্স বা প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের সঙ্গে নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, কসমেটিক্সে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান শরীরের হরমোন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস, ঋতুচক্রের সমস্যা এমনকি প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক কসমেটিক্সে থাকা রাসায়নিক উপাদানকে এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং কেমিক্যালস (EDC) বলা হয়। এগুলো শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন—বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন—এর মতো আচরণ করে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এর ফলে নারীদের লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যেতে পারে, যা ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের উপাদানের মধ্যে লোশন, শ্যাম্পু ও মেকআপে ব্যবহৃত প্যারাবেন (Parabens) ও থ্যালেটস (Phthalates) উল্লেখযোগ্য।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে নারীদের প্রজনন ক্ষমতা ও উর্বরতা হ্রাস পেতে পারে। থ্যালেটস ডিম্বাণুর স্বাভাবিক পরিপক্বতা ব্যাহত করে এবং ঋতুচক্রকে অনিয়মিত করে তোলে। একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে থ্যালেটসের মাত্রা বেশি হলে নারীদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়।
এছাড়া সুগন্ধিযুক্ত সাবান, বডি স্প্রে বা কসমেটিক্স সংবেদনশীল অঙ্গের সংস্পর্শে এলে ত্বকের পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে যোনিপথে সংক্রমণ, শুষ্কতা এবং মিলনের সময় ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা যৌন জীবনকে প্রভাবিত করে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া। লিপস্টিক, আইলাইনার কিংবা ফর্সা হওয়ার কিছু ক্রিমে সীসা, ক্যাডমিয়াম ও পারদের মতো ক্ষতিকর ধাতু পাওয়া যায়। এসব ধাতু ত্বকের মাধ্যমে রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন ও স্নায়বিক দুর্বলতা সৃষ্টি করে, যা সুস্থ যৌন জীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারে সচেতন হতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কসমেটিক্স পরিহার করতে এবং সম্ভব হলে কেমিক্যাল-ফ্রি বা নিরাপদ উপাদানযুক্ত পণ্য বেছে নিতে।