মাদক শুধু একটি আইনি অপরাধ নয়, এটি একটি পরিবারকে ধ্বংস করে, একটি প্রজন্মকে বিপথগামী করে এবং পুরো সমাজের বুনিয়াদকে দুর্বল করে দেয়। সামাজিক শান্তি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাদক এক ভয়ংকর হুমকি। এ কারণে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দাবি।
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদারের সরাসরি মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব ইতোমধ্যে সর্বস্তরে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকা ও অলিগলিতে নিজেই উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করা এবং প্রভাবমুক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দৃঢ়তা স্থানীয়ভাবে এক নতুন বার্তা দিয়েছে—অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রকৃত শক্তি কেবল ইউনিফর্মে নয়; বরং তাদের সততা, সাহস ও নিরপেক্ষতায়। তবে মাদক নির্মূল কোনো একদিনের বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক আইনি অভিযান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারি এবং একই সাথে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সচেতনতা। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই আইনের শাসনের মূল সৌন্দর্য।
ঈদগাঁওয়ের তরুণ সমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে মুক্ত করতে এটি কেবল পুলিশের অভিযান নয়, একটি সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেওয়া জরুরি। ওসির নেতৃত্বে এই আপসহীন অবস্থান অব্যাহত থাকুক—একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ ঈদগাঁও গঠনে এটাই এখন পুরো এলাকাবাসীর মূল প্রত্যাশা।
এডভোকেট আনোয়ার পারভেজ রুবেল
আইনজীবী, লেখক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক