তীব্র দাবানল ও প্রখর খরায় পুড়ছে ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশ। বিশাল বনাঞ্চল ও পিটল্যান্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক আগুনের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে দেশটির একাধিক শহর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত স্রষ্টার রহমত ও বৃষ্টির আশায় বিশেষ মোনাজাতে সামিল হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট, ২০২৬) দক্ষিণ সুমাত্রার রাজধানী পালেমবাংয়ে গভর্নরের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে বিশেষ প্রার্থনা ও সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টির নামাজ) আদায় করেন। এ সময় ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢাকা ছিল, এমনকি দিনের বেলাতেও গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। নামাজের আগে প্রদেশটির গভর্নর হারমান ডেরু বলেন, “আমরা আমাদের সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছি। বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে আমরা এখন ঈশ্বরের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করছি, যাতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে।”
ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসেই দেশজুড়ে প্রায় ৯৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে। এর মধ্যে কেবল দক্ষিণ সুমাত্রাতেই ১,৪২৯টি দাবানলের উৎস (হটস্পট) শনাক্ত করা হয়েছে, যা দেশটির মধ্যে সর্বোচ্চ। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া এল নিনোর প্রভাব ও দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এ বছর আগুনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিষাক্ত এই ধোঁয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া কৃত্রিম উপায়ে মেঘে লবণ ছিটিয়ে বৃষ্টি ঘটানোর ব্যবস্থা জোরালো করেছে। এছাড়া সুমাত্রা ও কালিমান্তান অঞ্চলে প্রায় ৫২টি বিমান ও হেলিকপ্টার পানি বর্ষণ এবং মেঘ সংশোধনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে, বনাঞ্চলে বেআইনিভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইন্দোনেশীয় পুলিশ। একই সঙ্গে জমি পরিষ্কার করতে সস্তায় আগুন ব্যবহারের অভিযোগে চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে জমি চাষ উপযোগী করতে ঐতিহ্যগতভাবে আগুন লাগানোর এই প্রবণতা দেশটির জনস্বাস্থ্য ও সড়ক-বিমান যোগাযোগকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।