ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিন শত শত চমকপ্রদ বা কৌতূহলোদ্দীপক লিঙ্ক ভেসে বেড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল বা মেসেজিং অ্যাপগুলোতে। তবে কোনো কিছু না ভেবে বা অসাবধানতাবশত একটি ভুল কিংবা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করে ফেলা হতে পারে মহা বিপদের কারণ। আপনার অজান্তেই সেই একটি ক্লিক আপনাকে এনে দাঁড় করাতে পারে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির জালে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো প্রতিনিয়ত ক্ষতিকারক ডোমেইন, ডার্কওয়েব লিঙ্ক, ফিশিং সাইট এবং উগ্রবাদী ফোরামগুলোর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারি চালায়। এসব বিপজ্জনক সার্ভারে কোনো সাধারণ ব্যবহারকারী কৌতূহলবশত ঢুকলেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে গোয়েন্দা ডেটাবেজে সংশ্লিষ্ট আইপি ঠিকানাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সন্দেহভাজন’ বা স্পর্শকাতর হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়।
বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে ‘পেগাসাস’-এর মতো শক্তিশালী স্পাইওয়্যার আক্রান্ত কিংবা বিভিন্ন হ্যাকিং গ্রুপিংয়ের ভুয়া ডোমেইনে অনভিপ্রেত আইপি থেকে প্রবেশ করার পর অনেক সাধারণ ব্যবহারকারীও নজরদারির আওতায় চলে এসেছিলেন। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া উগ্রবাদী মতাদর্শের গোপন কোনো ফোরামের লিঙ্কে চাপ দিলেও ডিভাইসের মেক এড্রেস, ভৌগোলিক অবস্থান ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সরাসরি গোয়েন্দা ট্র্যাকিং সার্ভারে রেকর্ড হয়ে যায়।
এর চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি হয় যখন কোনো হ্যাকার গ্রুপের ব্যবহৃত র্যানসমওয়্যার বা বটনেট সার্ভারের লিঙ্কে ক্লিক করা হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধরে নেয় ঐ ডিভাইসটি হয়তো কোনো আন্তর্জাতিক সাইবার হামলার অংশ বা অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত কোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক তদন্তে নির্দোষ ব্যবহারকারীদেরও অনাকাঙ্ক্ষিত জিজ্ঞাসাবাদ বা দীর্ঘমেয়াদী ডিজিটালি ব্ল্যাকলিস্টেড হওয়ার মতো ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইলে আসা কোনো লটারি, চমকপ্রদ খবর বা অচেনা মানুষের পাঠানো অফারের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে শতভাগ বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি ডিভাইসে আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস, ফায়ারওয়াল এবং কেবল নির্ভরযোগ্য ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে নিজের নিরাপদ উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।