সর্বশেষ

মানুষ হাই কেন তোলে?

অনেকক্ষণ ধরে কাজ করছেন, হঠাৎ মুখ বড় করে একটা বড় হাই তুললেন। কিংবা ক্লাসে বসে আছেন অথবা অফিসে মিটিং চলাকালীন না চাইতেও একের পর এক হাই এসে যাচ্ছে। আমরা সাধারণত ভাবি ঘুম পেলে বা ক্লান্ত লাগলে মানুষ হাই তোলে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, শরীর ঠিক কী কারণে এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটি দেখায়?

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষকদের মতে, হাই তোলার পেছনে কেবল ক্লান্তি বা অলসতাই দায়ী নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে শরীরের একাধিক বৈজ্ঞানিক ও শারীরবৃত্তীয় কারণ:

মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হাই তোলার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মস্তিষ্কের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে যেমন কুলিং ফ্যান চালু হয়, হাই তোলাও ঠিক তেমনি মস্তিষ্কের জন্য প্রাকৃতিক কুলিং সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। হাই তোলার সময় আমরা গভীর শ্বাস নিই, যা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস পৌঁছে দেয় এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখে।

শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি

মানুষ যখন ক্লান্ত বা একঘেয়ে বোধ করে, তখন তার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি কিছুটা কমে আসে। এর ফলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কিছুটা কমে যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে। হাই তোলার মাধ্যমে শরীর একবারে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং রক্তে অক্সিজেনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

মানসিক সচেতনতা ও ক্লান্তি দূরীকরণ

ঘুম ঘুম ভাব এলে বা অলসতা গ্রাস করলে শরীর নিজেকে জাগ্রত রাখার চেষ্টা করে। হাই তোলার সময় মুখের ও ঘাড়ে থাকা পেশিগুলো প্রসারিত হয়। এতে হৃদস্পন্দন কিছুটা বাড়ে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয়, যা আমাদের আবার সতর্ক বা সচেতন হতে সাহায্য করে।

‘সামাজিক হাই’ বা অনুকরণীয় প্রতিক্রিয়া

কাউকে হাই তুলতে দেখলে নিজে থেকেই হাই চলে আসা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সোশ্যাল ইয়াওনিং’ (Contagious Yawning)। মানুষের মস্তিষ্কে থাকা ‘মিরর নিউরন’-এর কারণে এটি ঘটে থাকে। এটি মূলত মানুষের সহানুভূতি ও সামাজিক যোগাযোগের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বহিঃপ্রকাশ।

সাধারণভাবে হাই তোলা একেবারেই স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর। তবে আপনি যদি পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও ঘন ঘন (যেমন মিনিটে একাধিকবার) হাই তুলতে থাকেন, তবে তা অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com