যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার গ্রেট ফলসের ব্যবসায়ী রিক তারিক রহিমকে কর জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করেন বিচার বিভাগের ট্যাক্স ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কারেন ই. কেলি এবং পূর্ব ভার্জিনিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি এরিক এস সিবার্ট।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রহিম বেশ কয়েকটি ব্যবসার মালিক ছিলেন, যার মধ্যে লেজার ট্যাগ সুবিধা ও অ্যামাজন পুনঃবিক্রয় সংস্থা অন্তর্ভুক্ত। ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে রাখা কর আইআরএসে জমা দেননি এবং নিয়মিত কর রিটার্নও দাখিল করেননি।
২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিনি দুইবার আয়কর রিটার্ন দাখিল করলেও কর পরিশোধ করেননি। আইআরএস তার বকেয়া কর আদায়ের চেষ্টা করলে তিনি মিথ্যা তথ্য দেন এবং নিজের মূল্যবান সম্পদ, যেমন হেলিকপ্টার, বেন্টলি, ল্যাম্বরগিনি ও একটি বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিকানা গোপন করেন। পরবর্তীতে সম্পত্তিটি তার স্ত্রীর নামে স্থানান্তর করেন।
ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত খরচ চালিয়ে রহিম প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার ডলার বন্ধক পরিশোধ করেন এবং ৬ লাখ ৬৯ হাজার ডলার দিয়ে বিভিন্ন বিলাসবহুল গাড়ি কেনেন বা লিজ নেন। তিনি ১০ হাজার ডলারের নিচে আলাদা লেনদেন করে ১.১ মিলিয়নের বেশি নগদ টাকা উত্তোলন করেন যাতে ব্যাংক লেনদেনের প্রতিবেদন না হয়। ২০১২ সালের পর থেকে ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলেও তিনি ৩৪ মিলিয়নেরও বেশি আয় করেছেন।
আইআরএসের হিসেবে, রহিমের জালিয়াতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া, রহিম তার ট্রেডিং সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং বটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করতেন। ‘আজীবন সদস্যপদ’ পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রতারিত করে তিনি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেন।
নিজেকে শেয়ারবাজারের সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে তুলে ধরতে টিকটক, ইউটিউব ও ডিসকর্ডে বিলাসবহুল জীবনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতেন। তবে বাস্তবে তিনি ২০২১-২২ সালের মধ্যে ৫ লাখ ডলারের বেশি লোকসান করেছেন। প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি ২০টি ভুয়া ডিসকর্ড প্রোফাইল তৈরি করে নিজ পোস্টে প্রশংসাসূচক প্রতিক্রিয়া দিতেন।
আদালতের নির্দেশে, রহিমকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি অর্থ বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং আইআরএস ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।