জন্মদাত্রী মায়ের গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ, জাল তালাকনামা তৈরি এবং শেষ বয়সে মা’কে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগে অবশেষে কারাগারে ঠাঁই হলো সন্তান ফয়সাল খানের। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত ফয়সাল খান কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের পূর্ব ইছাখালী এলাকার সৌদি প্রবাসী জসীম উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে তারই গর্ভধারিণী মা শাহেদা আক্তার ‘সি আর মামলা নং- ৫১১/২০২৫’ দায়ের করেছিলেন। মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ফয়সালকে C/W মূলে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
মামলার তথ্য ও বাদীর অভিযোগে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক কাহিনী। মা শাহেদা আক্তারের দাবি ফয়সাল কৌশলে তার মায়ের কাছ থেকে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। শুধু টাকা নিয়ে ক্ষান্ত হননি ফয়সাল, বরং তার প্রবাসী পিতা জসীম উদ্দিনের নামে একটি ভুয়া তালাকনামা তৈরিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেন, যা একজন স্ত্রীর জন্য চরম অবমাননাকর। শুধু তাই নয়, মায়ের অর্থে কেনা ১০ কড়া জমির ওপর নির্মিত বসতবাড়িটি ফয়সাল ও তার স্ত্রী মিলে দখল করে নেন। বাধা দিলে গর্ভধারিণী মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পবিত্র রমজান ও ঈদের পরবর্তী সময়ে যখন পরিবারগুলোতে আনন্দের আমেজ থাকার কথা, তখন একজন সন্তানের এমন পাশবিক আচরণে পুরো ঈদগাঁও এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে প্রবাসে থাকা স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থ তুলে দিলেন, সেই সন্তানই আজ টাকার লোভে অন্ধ হয়ে মাকে পথে বসিয়েছে।
আদালতের এই কঠোর আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, এই রায় সমাজের অন্য অবাধ্য ও লোভী সন্তানদের জন্য একটি চরম বার্তা হয়ে থাকবে। আজ বিকেলে কড়া পুলিশি পাহারায় ফয়সালকে আদালত চত্বর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।