বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
আজ মঙ্গলবার (০২ জুন, ২০২৬) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সিন্ডিকেটমুক্ত স্বচ্ছ শ্রমবাজার ও মালয়েশিয়া প্রসঙ্গ
শুরু থেকেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন,
“আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।”
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাজারটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে। তবে এবার শ্রমবাজার খুললে সেটি হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত; অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।
আসছে সমন্বিত ‘প্রবাসী কার্ড’
বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর আলাদা করে বিএমইটি (BMET) কার্ড থাকবে না। এত কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা কী করবে? একটা কার্ড দিয়েই যেন তারা সব ধরনের ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।” এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
যোগাযোগে হোয়াটসঅ্যাপ ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেল
প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকরা ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই তাদের সুবিধার্থে হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
মানবপাচারের অভিযোগ তদন্ত ও টিটিসি সংস্কার
রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আরিফুল হক আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “এটি আমার অন্যতম অঙ্গীকার। যদি এই খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারি, তাহলে নিজেকে সফল মনে করব না।”
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা তথ্য দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”