Home » বোয়ালখালীতে সিএনজি চালকদের চরম নৈরাজ্য, জিম্মি সাধারণ যাত্রী!

বোয়ালখালীতে সিএনজি চালকদের চরম নৈরাজ্য, জিম্মি সাধারণ যাত্রী!

0 comments 114 views
A+A-
Reset

উৎসবের আনন্দকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার মহোৎসব চলছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও, এই ঈদের আনন্দ সাধারণ যাত্রীদের জন্য রূপ নিয়েছে চরম মানসিক যন্ত্রণায়।

ঈদ উপলক্ষে গণপরিবহন বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চালকেরা কিছুটা বাড়তি ভাড়া বা ‘বকশিশ’ দাবি করবেন—এটাকে অলিখিত নিয়ম হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বকশিশের নামে যখন প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতি শুরু হয়, তখন ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠাই স্বাভাবিক। বোয়ালখালীতে এখন ঠিক এই চিত্রই দেখা যাচ্ছে, যেখানে বকশিশের ছদ্মবেশে যাত্রীদের জিম্মি করে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

​ঈদের দুই দিন আগে থেকেই উপজেলার গোমদণ্ডী, ফুলতল, শাকপুরা চৌমুহনী এবং কালুরঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সরেজমিনে এসব এলাকায় ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রুটভেদে সিএনজি অটোরিকশাগুলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তারচেয়েও বেশি ভাড়া দাবি করছে। যে দূরত্বের নিয়মিত ভাড়া ২০০ টাকা, এই উৎসবের মৌসুমে সেখানে ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে! চালকদের কাছে এই আকাশচুম্বী ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো যুক্তি বা নিয়মের তোয়াক্কা না করে এক গাল হেসে নির্লজ্জের মতো একটাই মুখস্থ জবাব দিচ্ছেন—

“ঈদের সময় একটু বকশিশ তো দেওয়াই যায়!”

​প্রশ্ন উঠছে, বকশিশের সংজ্ঞা আসলে কী? বকশিশ কি যাত্রীদের স্বেচ্ছায় দেওয়া খুশি মনে কোনো উপহার, নাকি চালকদের জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া কোনো বাধ্যতামূলক চাঁদা? ২০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দাবি করার পর সেটাকে ‘বকশিশ’ বলাটা শব্দটির সাথেই এক চরম তামাশা। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পেরে অনেক যাত্রীকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গাড়ি না নিয়ে পায়ে হাঁটা কিংবা চড়া দামে জিম্মি হওয়া ছাড়া সাধারণ মানুষের সামনে আর কোনো উপায় থাকছে না।

​এই জিম্মিদশার ওপর আরও মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিএনজি চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং উশৃঙ্খল আচরণ। অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলেই চালকেরা দলবেঁধে যাত্রীদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ছে, এমনকি চরম অপমানজনক ও অসভ্য আচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। একইসাথে ওভারলোডিং (অতিরিক্ত যাত্রী বহন) এবং ওভারস্পিডিং যেন বোয়ালখালীর সড়কগুলোকে একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে।

​ভুক্তভোগী জনমনে এখন তীব্র ক্ষোভ আর ধিক্কার। সাধারণ মানুষের যৌক্তিক প্রশ্ন—ঈদ এসেছে বলে কি প্রতি কিলোমিটারে গ্যাসের দাম ২-৩ গুণ বেড়ে গেছে? নাকি গ্যারেজের মালিকেরা ঈদ উপলক্ষে গ্যারেজ ভাড়া দ্বিগুণ করে দিয়েছেন? যদি তার কোনোটিই না হয়ে থাকে, তবে কোন খুঁটির জোরে এই চালকেরা প্রতি বছর উৎসবের দিনগুলোতে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন নৈরাজ্য চালানোর সাহস পায়?

​সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এই প্রকাশ্য জুলুমের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সঙ্গে বিভিন্ন সময় সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বললেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই কেবল ‘উদ্বেগ প্রকাশ’ করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন; মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যকর ভ্রাম্যমাণ আদালত বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। ফলে, প্রশাসনের এই নীরবতা প্রকারান্তরে সিন্ডিকেটধারী চালকদের আরও বেশি লাইসেন্স দিয়ে দিচ্ছে। আর সাধারণ জনগণের ভাগ্যে কোনো বিচার না মিলে, কেবলই থেকে যাচ্ছে উৎসবের দিনে বুকফাটা হাহাকার আর নীরব কান্না।

You may also like

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com