পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটিতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মে মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩টি আলাদা টাস্কফোর্স এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ১০টি বিশেষ টিম গঠন করেছে। সাধারণত বন্দর, কাস্টমস, শিপিং, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফসহ সংশ্লিষ্ট ২৬টি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো একটির অনুপস্থিতি পুরো সরবরাহ চেইনে জটিলতা তৈরি করে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতেই এবার এই বিশেষ সমন্বিত তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৮,৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হয় প্রায় ৪,৫০০ টিইইউস কনটেইনার। তবে ঈদের ছুটির দিনগুলোতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও আমদানিকারকরা পণ্য খালাস না করায় ডেলিভারি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যা তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় না পৌঁছালে এবং প্রস্তুতকৃত পোশাক সময়মতো রপ্তানি করতে না পারলে উৎপাদন ও বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এই ক্ষতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিএমইএ-র পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ঈদের ছুটিকে সাধারণ ছুটির মতো বিবেচনা না করে পুরোদমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে ঈদের ঠিক আগে দেশের ২১টি বেসরকারি অফডকে (আইসিডি) আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে আইসিডিগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৭,৫০০ একক রপ্তানি কনটেইনার এবং ২,৫োর একক আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও ঈদের আগমুহূর্তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১,০০০ এবং ৩,৫০০ কনটেইনারে। বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’-র মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব জানান, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানি ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন, যার ফলে শিপমেন্টের এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত ৩টি পৃথক টাস্কফোর্স নির্দিষ্ট কিছু জোনে ভাগ হয়ে কাজ করবে, যার মধ্যে দুটি সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকবে এবং আরেকটি পৃথক টাস্কফোর্স সামগ্রিক নিরাপত্তা তদারকি করবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের সদস্য কমোদর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন আশ্বাস দিয়ে বলেছেন যে, ছুটির দিনগুলোতেও শুল্কায়ন ও এক্সামিনেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বক্ষণিক রোস্টারের মাধ্যমে কাস্টমসে দায়িত্ব পালন করবেন।