কুরবানীর আনন্দ সমাজের বিত্তশালী, গরীব, দুঃখী ও অসহায়—সবারই অধিকার এবং গরীবদের এই আনন্দে অংশীদার করা প্রতিটি ঈমানদারের ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
আজ শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬ ইং) ১৬নং চকবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কুরবানীর মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
স্থানীয় এক মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব এবং যারা কুরবানী করেন, তাদের অন্যতম দায়িত্ব হলো সমাজের অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কুরবানীর গোশত সঠিক নিয়মে বিতরণ করা এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের এতে শরীক করা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুরবানীর পশুর চামড়াতেও গরীব মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে, কিন্তু আজ দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। চামড়ার বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় যেমন সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি গরীব ও এতিম মানুষেরাও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমতাবস্থায় তিনি চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে এবং চামড়া শিল্পকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানবিক কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, চকবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমাজসেবা সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইলিয়াছ এবং ১৫নং বাগমনিরাম ওয়ার্ড জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক তাওসিফ সুলতান রাফি প্রমুখ।
বক্তারা সমাজের সামর্থ্যবান শ্রেণীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শিক্ষা বুকে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর আহ্বান জানান।