বিশ্বরেকর্ড: এই বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের প্রাণহানি ৯৮৬
আক্রান্ত দেড় লাখ ছাড়াল
সংক্রমণের সব রেকর্ড ভেঙে দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী হাম। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। হাসপাতালে রোগীর তীব্র চাপে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর (২০২৬) পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম এবং হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯৮৬ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই একই সময়ে সারাদেশে মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও)-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে হামে সংক্রমণের ফলে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশেই মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের দেশ সুদান।
ডব্লিউএইচওর জেনেভা সদর দপ্তরে জমা হওয়া জুলাই মাসের বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশে আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের বড় অংশই ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির আওতাবহির্ভূত ছিল:
-
১ বছরের কম বয়সী আক্রান্ত শিশু: প্রায় ৫,০০০ জনের মধ্যে ৪,০০০ এরও বেশি শিশু হামের টিকার দুটি ডোজের একটিও পায়নি।
-
১ থেকে ৪ বছর বয়সী আক্রান্ত শিশু: ৪,০০০ জন রোগীর মধ্যে ১,৫০০ জন কোনো ডোজ পায়নি এবং প্রায় ৫০০ জন মাত্র ১টি ডোজ পেয়েছিল।
-
৫ থেকে ৯ বছর বয়সী আক্রান্ত শিশু: ১,০০০ জন আক্রান্তের অর্ধেকেরই কোনো টিকাদান হিস্ট্রি নেই।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত ব্যাধি। ডব্লিউএইচও-এর মতে, একজন আক্রান্ত শিশু গড়ে ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা রাখে। জনসমষ্টিতে প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করতে হলে ন্যূনতম ৯৫ শতাংশ শিশুকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা জরুরি। কিন্তু গত কয়েক বছরে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে জমতে থাকায় এবার এই ধরণের ভয়াবহ ও মহামারীতুল্য প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।