নগরবাসীর খাদ্য নিরাপত্তায় দ্রুতই চালু হচ্ছে চসিকের আধুনিক ফুড ল্যাব
চট্টগ্রাম নগরবাসীর নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে শীঘ্রই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ফুড ল্যাবরেটরির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, “নির্ভুল পরীক্ষা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ল্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হলে চট্টগ্রামবাসীর খাদ্য নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত হবে।”
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে নগরীর মুরাদপুরের বিবিরহাট এলাকায় অবস্থিত চসিকের ফুড ল্যাবে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট (IUPHPSP)’-এর আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল এজেন্ট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা জানান।
নতুন জনবল ও ল্যাব পরিদর্শন
এ প্রকল্পের আওতায় ল্যাবটিতে সেবা বেগবান করতে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং দুইজন অপারেটর নবনিযুক্ত জনবল হিসেবে যোগদান করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে মেয়র ল্যাবের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা, নমুনা সংরক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সার্বিক প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি ল্যাব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মেশিনের বর্তমান অবস্থা, কেমিক্যাল সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ বিলসহ পরিচালনাগত নানা বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনা
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “খাদ্যে ফরমালিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শনাক্তে নিয়মিত পরীক্ষা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি আছে, এখন প্রয়োজন সেগুলোর সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার। চসিকের এই ফুড ল্যাব শুধু জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্যই নয়, বরং এটি সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়েরও একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
এজন্য ল্যাবের সরঞ্জামগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করা এবং জনবলের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দ্রুত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আশ্বাস
মেয়র জানান, খুব শিগগিরই ফুড ল্যাবটি আধুনিক রূপ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং সাধারণ নাগরিকদের খাদ্য পরীক্ষার সুবিধার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি ল্যাব কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতির মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করতে হবে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ দ্রুত অপসারণ করে ইনভেন্টরি খাতাপত্র হালনাগাদ রাখতে হবে।
পরিদর্শনকালে চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফকাত বিন আমিন, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, মো. এনামুল হকসহ চসিকের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।