বর্জ্যশূন্য পর্যটন এলাকা গড়তে সেন্টমার্টিনে কাজ করছে সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্স
সেন্টমার্টিন দ্বীপকে একটি বর্জ্যশূন্য পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্স। অ্যালায়েন্সের সদস্য ব্র্যাক, ইউনিলিভার, এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
পরিকল্পনা ও উদ্যোগ
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস জানান, মাল্টি-স্টেকহোল্ডার মডেলের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং জেলেদের সম্পৃক্ত করা হবে। পরিকল্পনায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভ্যালু চেইন তৈরি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং দ্বীপের বাস্তুসংস্থান রক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মূল লক্ষ্যগুলো:
- প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো
- একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ করা
- টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি বাস্তবায়ন
- হোটেল এবং দোকান মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি
পরিবেশগত বিপদ ও চ্যালেঞ্জ
সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গঠিত দ্বীপটির বাস্তুসংস্থান প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে না। বর্তমানে দ্বীপে প্রায় ১০-১২ হাজার মানুষ বসবাস করছে, আর পর্যটন মৌসুমে দৈনিক অতিরিক্ত ১০-১২ হাজার পর্যটকের আনাগোনা দ্বীপটির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। অতিরিক্ত পর্যটন এবং যথেচ্ছ ব্যবহারে দ্বীপটির কোরাল এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। পর্যটকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।”
সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম
সংকলিতা সোম, প্রধান সমন্বয়ক, জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি, দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “সেন্টমার্টিনের পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই পর্যটনকে প্রমোট করবে।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের পদক্ষেপ
পরিবেশ অধিদপ্তর সম্প্রতি নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রয় বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। ৩ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে প্রায় ৪৩,৩৯০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
টেকসই পর্যটনের আহ্বান
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থান এবং সমাজের সকল অংশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রবাল দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।