ইসরায়েল কর্তৃক গাজায় সাহায্য প্রবেশে বাধা, চলমান অবরোধ ও নতুন সামরিক অভিযানের কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, সেখানে প্রায় ৭১ হাজার শিশু এবং ১৭ হাজার মা বর্তমানে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন।
প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন (IPC)’ রিপোর্ট অনুসারে, গাজার ৪ লাখ ৭০ হাজার মানুষ চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে। গাজার পুরো জনগোষ্ঠীই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যা আগামী মাসগুলোতে দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “দুর্ভিক্ষ আকস্মিকভাবে আসে না। এটি আসে যখন শিশুদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত করা হয়। গাজায় এই দুর্যোগ এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা।”
গত ২ মার্চ থেকে গাজার সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, মানবিক সহায়তা প্রবেশ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, ইতোমধ্যে গরম খাবার সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত ডব্লিউএফপি-সমর্থিত সব রান্নাঘর ও বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ মজুদও ২৫ এপ্রিল শেষ হয়ে যায়। ইউনিসেফের অপুষ্টি প্রতিরোধমূলক থেরাপি সরবরাহও এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন বলেন,
“গাজার পরিবারগুলো না খেয়ে রয়েছে, অথচ তাদের জন্য জরুরি খাদ্য ও ওষুধ সীমান্তেই আটকে রয়েছে। যদি আমরা এখনই কাজ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকে বেঁচে থাকার সুযোগই পাবে না।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রায় ১১৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী সীমান্তে সাহায্য করিডরে প্রস্তুত রয়েছে, যা ১০ লাখ মানুষের চার মাসের খাবার সরবরাহে যথেষ্ট। জীবন রক্ষাকারী পুষ্টি চিকিৎসা প্যালেটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, কিন্তু প্রবেশাধিকার না থাকায় তা বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না।
ইউনিসেফ ও ডব্লিউএফপি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে—গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে।