খবর ২৪ ঘন্টায় গত ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় একটি সাজানো অস্ত্র মামলার অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকার বিনিময়ে নিরীহ এক সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে জড়িত ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম, কনস্টেবল তানভীর ও কনস্টেবল মনির। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম এটি নিয়ে পুনরায় রিপোর্ট করলে ভাইরাল বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম ও কনস্টেবল তানভীর
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাতটায় এক পুলিশ সদস্য পাবলিক ছদ্মবেশে সিএনজি ভাড়া নেন। কিছু দূর যাওয়ার পর পানির অজুহাতে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে দোকানে পাঠানো হয়। ওই সময় সিএনজির পেছনে একটি অস্ত্র রেখে নামেন তিনি। ড্রাইভার ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকে ওত পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে আটক করে সিএনজিতে রাখা অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে জোরপূর্বক তার হাতে অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলেন—এমন দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘটে ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আনু মিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে।
সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই বদিউল আলম; সঙ্গে ছিলেন কনস্টেবল তানভীর ও মনির। ফুটেজের সঙ্গে মিল রেখে ভুক্তভোগী সিএনজি চালক জাফর আলমের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলে প্রতিবেদক। ঈদগাঁওয়ের ইসলামপুর ইউনিয়নের ভিলিজারপাড়ায় জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসকারী জাফর আলমের স্ত্রী রাবেয়া অভিযোগ করেন, ইভটিজিংয়ের ঘটনায় মামলা করায় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে ব্যবহার করে তার স্বামীকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন প্রমাণ না থাকায় তারা আইনি লড়াই শুরু করতে পারেননি; এখন সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ায় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার
জাফর আলমের কন্যা লীজা মনিও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ইভটিজিংয়ের মামলার পর থেকে তাদের পরিবার ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মধ্যে আছে। তার অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে আঁতাত করে পুলিশ তার বাবাকে ফাঁসিয়েছে—যার প্রমাণ ফুটেজে স্পষ্ট।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জাফর আলম একজন ভাড়াটিয়া সিএনজি চালক ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তারা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত, প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং জাফর আলমের মুক্তি চান।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানায় এসআই বদিউল আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, মামলার এজাহারের সঙ্গে ঘটনার মিল নেই এবং পুরো বিষয়টি অসঙ্গতিপূর্ণ।
আলোচিত সেই রিপোর্টের লিংক:
ফেসবুক: https://www.facebook.com/reel/1595382011595959
ইউটিউব: https://www.youtube.com/watch?v=49-M9rsKQ44