চট্টগ্রামের নির্বাচনি আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। সম্পদের পরিমাণ ও মামলার সংখ্যার দিক থেকে দুই দলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। সম্পদের ‘প্রতিযোগিতায়’ এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। দলটির ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জনই কোটিপতি, যেখানে জামায়াতের কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ১২ জন। অনেক প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে ১০০ কোটিরও বেশি।
মামলার দিক থেকেও বিএনপির প্রার্থীরাই শীর্ষে। হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বাকি ১৫ জনের বিরুদ্ধে মোট ৩৬৬টি মামলার তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে ১৪৭টি মামলা বর্তমানে চলমান বা বিচারাধীন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ১৫টি আসনে জামায়াত মনোনীত ১০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। বাকি পাঁচ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মোট ২০৩টি মামলা থাকলেও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে মাত্র ২২টি মামলা।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৭ কোটি টাকা এবং তার ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা থাকলেও ১৯টি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। একই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৩.৮৪ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধেও ২৯টি মামলা ছিল এবং তিনিও ১৯টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হকের মোট সম্পদ ৪৪.৫৯ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২১টি বিচারাধীন। পাশাপাশি তার ঋণের পরিমাণ ১২১.১৫ কোটি টাকা। বিপরীতে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের নিট সম্পদ ১২.১৫ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ঋণের তথ্য নেই।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদের সম্পদ ৪০.৬১ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে, যার কিছু তদন্তাধীন ও বিচারাধীন। একই আসনে জামায়াত প্রার্থী ওমর ফারুক ৩.৩৯ কোটি টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তবে ১.৮ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সম্পদ ২৫.৭৯ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি বর্তমানে চলমান। একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী গোলাম আকবর খন্দকারের মোট সম্পদ ৩৬.৩৬ কোটি টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংকে তার ২৭.৮ কোটি টাকার ঋণের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে এবং তিনি সাতটি মামলায় খালাস পেয়েছেন। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জুরের সম্পদের পরিমাণ ২.১২ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, খুলশী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ আল নোমানের মোট সম্পদ ৩৪.৭৭ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর মোট সম্পদ ১.৫৫ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলার তথ্য রয়েছে এবং সবগুলোতেই তিনি খালাস পেয়েছেন বা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মোট সম্পদ ১৪.৮ কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা রয়েছে, যার একটি বর্তমানে বিচারাধীন।
চট্টগ্রামের অন্যান্য আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ৩১.২২ কোটি টাকা, এরশাদ উল্লাহর ২৩.৮৭ কোটি টাকা, সরওয়ার আলমগীরের ১৩ কোটি টাকা, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর ১০.৪ কোটি টাকা, সরওয়ার জামাল নিজামের ৬.৪১ কোটি টাকা, মোস্তফা কামাল পাশার ৬.৭৮ কোটি টাকা, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের ৪.৩৮ কোটি টাকা, নাজমুল মোস্তফা আমিনের ৪ কোটি টাকা এবং নুরুল আমিনের ১.৪৯ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এ কে এম ফজলুল হক (৭.৭৩ কোটি টাকা), এ টি এম রেজাউল করিম (৪.৭ কোটি টাকা), মো. আবু নাসের (২.৫৯ কোটি টাকা), শাহজাহান চৌধুরী (২ কোটি টাকা), মোহাম্মদ নুরুল আমিন (১.৬৭ কোটি টাকা), মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (১.৬৬ কোটি টাকা), মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (১.২৭ কোটি টাকা) ও শফিউল আলম (১.১০ কোটি টাকা)।