যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আগামী বুধবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং ঐতিহ্যবাহী এই দুই দলের দ্বৈরথ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আবেগীয় দিক থেকেও সবসময়ই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ফুটবল মহাযজ্ঞের শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান এবং বিশ্বকাপের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি করেছে।
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মোট ৫ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এই ৫ বারের লড়াইয়ে পরিসংখ্যানের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে থ্রি-লায়ন্সরা। ইংল্যান্ড জিতেছে ৩টি ম্যাচে, আর আলবিসেলেস্তেরা জয় পেয়েছে ২টিতে। বিশ্বকাপে এই দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে, যেখানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৬৬ সালের বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেয় আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
বিশ্বকাপের এই ৫টি ম্যাচে গোল দেওয়া-নেওয়ার পরিসংখ্যানেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। ৫টি ম্যাচে ইংলিশরা আর্জেন্টিনার জালে মোট ৮টি গোল দিয়েছে, বিপরীতে আর্জেন্টিনা করতে পেরেছে ৫টি গোল। অর্থাৎ, ইংল্যান্ড যেখানে ৮টি গোল করেছে, সেখানে তারা হজম করেছে ৫টি গোল। অন্যদিক থেকে হিসাব করলে, আর্জেন্টিনা ৫টি গোল দেওয়ার পাশাপাশি ইংলিশদের কাছ থেকে ৮টি গোল হজম করেছে। নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে দুই দলের রক্ষণ ও আক্রমণের এই ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই এবার আটলান্টার সেমিফাইনালেও এক চুল ছাড় না দেওয়ার আভাস দিচ্ছে।
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ মানেই ফুটবল ইতিহাসের কিছু অমর ও বিতর্কিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে, যা এককভাবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। সেই ম্যাচের প্রথম গোলটি ম্যারাডোনা হাত দিয়ে করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলে ‘হ্যান্ড অব গড’ (Hand of God) বা ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিতি পায়। এর ঠিক চার মিনিট পর ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে শতাব্দীর সেরা গোলটি (Goal of the Century) করেন। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেওয়া এবং ম্যাচ শেষে ইংলিশ কোচ আলফ রামসের আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ‘পশু’ বলে অভিহিত করা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তরুন ডেভিড বেকহামকে ডিয়েগো সিমিওনেকে ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখানো এবং পরবর্তীতে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয় আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। এবার ২০২৬ সালের সেমিফাইনালে আটলান্টার মাঠে কি এমন কিছু দেখতে পাবে ফুটবল বিশ্ব? চোখ রাখুন পর্দায়।