রেকর্ড পরিমাণ টানা বৃষ্টি, তীব্র জলাবদ্ধতা আর ভয়াবহ পাহাড় ধসের কারণে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ। চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম মহানগরী, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, সমগ্র কক্সবাজার জেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি থমকে গেছে, ভেঙে পড়েছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই রিপোর্ট লেখার সময়ও আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) এর প্রথম প্রহরে অঝোর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মুখে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা, স্কুল-কলেজের প্রাত্যহিক ক্লাস এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করে আছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, “চট্টগ্রাম ডুবে যাক, কিন্তু তারপরও পরীক্ষা নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়!” গত বৃহস্পতিবার প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স এর পরীক্ষা চালুর প্রথম দিনেই দুর্যোগের কারণে অজস্র পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বৈরী আবহাওয়া আর বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, লোহাগাড়া, কুতুবদিয়াসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম শহরে এসে পরীক্ষা দেওয়া অসংখ্য পরীক্ষার্থীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
এই চরম সংকটের বিষয়ে ‘খবর ২৪ ঘণ্টা’-র পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে কয়েকবার চেষ্টার পরও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একদিকে দুর্যোগের কারণে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনড় অবস্থানে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের হাজার হাজার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তারা অবিলম্বে চট্টগ্রামের পরীক্ষাগুলো স্থগিত করে নতুন সময়সূচি ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন।