Home » গ্রিন স্ট্যান্ডার্ড না মানলে ছাড় নয়: শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী

গ্রিন স্ট্যান্ডার্ড না মানলে ছাড় নয়: শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী

0 comments 277 views
A+A-
Reset
বৈশ্বিক শীর্ষস্থানে ফেরার লক্ষ্য: সীতাকুণ্ডে জাহাজ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শনে গ্যাস সংকট ও গ্রিন লাইসেন্স নিয়ে শিল্পমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে দেশের সব জাহাজ রিসাইক্লিং (জাহাজ ভাঙা) ইয়ার্ডকে অবশ্যই কমপ্লায়েন্স মেনে গ্রিন লাইসেন্সধারী হতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া দেশে জাহাজ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে যারা এ খাতে নতুন করে ব্যবসা করতে চান, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে জাহাজ রিসাইক্লিং কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে ৩১টি গ্রিন লাইসেন্সধারী জাহাজ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড রয়েছে। একসময় এই শিল্পকে পরিবেশবিরোধী, শ্রমিক শোষণনির্ভর এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের খাত হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে আমাদের গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে এবং উচ্চমানের পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে, যা পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।” তিনি দেশের অন্য সব ইয়ার্ডকেও দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে গ্রিন লাইসেন্স নেওয়ার তাগিদ দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান টেনে বলেন,

“মাত্র দুই বছর আগেও বিশ্বের মোট জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বাংলাদেশে সম্পন্ন হতো। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ কারণে সাময়িকভাবে আমরা সেই অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে গেলেও, দ্রুত আবারও বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে ফিরে যেতে সরকার কাজ করছে।”

তিনি আশ্বস্ত করেন, এই শিল্পের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর।

উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক, নীতিগত বা প্রশাসনিক যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। ইয়ার্ডগুলোর আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কঠোরভাবে তুলে ধরা হবে।”

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দেশের বর্তমান তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসময় বলেন, “বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি (MMCFD) গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকার বসে নেই; নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”

গুরুত্বপূর্ণ এই পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্প মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

You may also like

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com