নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ংকর মাদক ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়ার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাদক সিন্ডিকেটের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও খোদ বিএনপি নেতাসহ দুই জন পলাতক রয়েছেন।
গত রোববার (১০ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল প্রথমে ডবলমুরিং থানার সুপারিওয়ালা পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে ‘পারভেজ ডিজেল সার্ভিস’ নামের একটি ওয়ার্কশপে মাদক কেনাবেচার সময় মো. শাহ আলম নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ইয়াবার একটি বড় চালান।
আটক শাহ আলমের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ডিবি পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালায় পতেঙ্গা থানার দুরিয়া পাড়ায় বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমানের বিলাসবহুল বাসায়। তল্লাশিকালে ওই নেতার ড্রয়িং রুমের টি-টেবিলের ওপর থাকা একটি টেবিল ক্যালেন্ডারের ভেতর সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় প্যাকেট ভর্তি ইয়াবা পাওয়া যায়। অভিযানে সব মিলিয়ে ৬ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ডিবি (উত্তর) বিভাগের এসআই মাহমুদুল করিম বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— মো. শাহ আলম (গ্রেফতার), মো. পারভেজ (পলাতক) এবং পতেঙ্গা ৪১ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়া (পলাতক)।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ পরিদর্শক মো. আফতাব হোসেন জানান, ইয়াবা উদ্ধারের সময় প্রভাবশালী বিভিন্ন মহল থেকে ফোনের পর ফোন আসছিল। তবে সব ধরণের তদবির ও বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ মাদক জব্দ করে এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুল আবছারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ আছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে ইয়াবা এনে নিজ বাড়িতে মজুত করে পাইকারি ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।