আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম নিজের এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরা নিয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র কাছে মুখ খুললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ছ’বছরের নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফেরার ঠিক ৪৫ বছর পর, ভারতে অবস্থানরত হাসিনার এই নতুন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন,
“সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর গর্ব নিয়েই ফিরব।”
আওয়ামী লীগের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক বাধার মুখে কীভাবে প্রত্যাবর্তন সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিরোধীদের ইতিহাস পড়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “যারা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী মনে করছেন তাদের ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে বলব। আমাদের কোটি কোটি সমর্থক এবং লাখো নেতা কর্মী দেশেই রয়েছেন। এখনও আমার ছাত্র লীগের ছেলেরাই অসহায় কৃষকদের পাশে রয়েছে।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের নেতা-কর্মীরা সরব। আওয়ামী লীগ মানুষের আবেগে রয়েছে। ফলে আমাদের ফিরে আসা অনিবার্য, এটি শুধু কিছু সময়ের ব্যাপার। আমরা আরও সংগঠিত হয়ে, শক্তিশালী হয়ে ফিরব এবং নীরবে তার প্রস্তুতি চলছে।”
৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে, বিশেষ করে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। তাদের দেশত্যাগ নিয়ে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, কেউ স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। তিনি বলেন, “ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণে বাঁচতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এই অবস্থায় যাঁরা বাইরে রয়েছেন তারা বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।”
বিদেশে থাকা এবং দেশে প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা কর্মীদের আশ্বস্ত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন তৈরি হলেই তাঁরা স্বদেশে ফিরবেন। আর এই শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশে ও বিদেশে যাঁরা দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন, দল আগামীতে তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।”