ফেনীর শর্শদীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একেবারে কাছেই সড়ক সংস্কার কাজের বিটুমিন পোড়ানোর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধে চার শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর খানেবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী হাসনা আক্তার মুক্তা (১০), সামিয়া নওরিন (১০), মারিয়া আক্তার (১০) ও নিহা (১১)। তারা সবাই স্থানীয় উত্তর শর্শদী এলাকার বাসিন্দা।

অভিভাবক ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী স্থানে রাস্তা সংস্কারের জন্য খোলা জায়গায় বিটুমিন পোড়ানোর কাজ চলছিল। বুধবার দুপুর দেড়টায় শিক্ষার্থীদের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার পর চারদিকে বিটুমিনের তীব্র বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরীক্ষার আগেই বেশ কয়েকজন শিশু তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে এবং চারজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পিংকি রানী কর্মকার ও হাজরা আক্তার দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিক্ষার্থীরা জরুরী বিভাগে আসে। ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রোকন উদ্দৌলা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুজনকে আশঙ্কামুক্ত রাখতে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কোমলমতি ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে লোকালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে উন্মুক্তভাবে বিটুমিন পোড়ানোর ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।