বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের প্রথম একশ’ দিনে দুইশ’ উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে জনজীবন ও সমাজে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান ইতিবাচক প্রভাব এবং নতুন আশাবাদের বার্তা পড়তে শুরু করেছে। সরকারের এই অগ্রযাত্রার উল্লেখযোগ্য অর্জন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে আজ বুধবার (২৭ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত হালনাগাদ করবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
প্রকাশিত ই-বুকে উল্লেখ করা হয় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন ছিল মূলত দিকনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের সময়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগের স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মতো একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার দ্রুত কিছু নীতিগত ও জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সময়ে সরকারের কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল ও কাঠামোগত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা।
প্রথম ১০০ দিনে সরকারের গৃহীত দুইশ উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এবং জনমুখী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, দেশের কৃষক সমাজের অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে কৃষিঋণ মওকুফ এবং ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা ও বিচার বিভাগে ই-বেইলবন্ডের মতো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা। এর পাশাপাশি তরুণ ও ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ডসহ শিক্ষা ও তরুণদের কল্যাণে নতুন কর্মসূচি, দেশজুড়ে খাল পুনঃখনন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের আর্থিক সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিছু ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যেমন—রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সীমিত রাখা, সরকারি ব্যয়ে কঠোর সংযম নীতি অনুসরণ, মাঠপর্যায়ের সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
ই-বুকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন করা এখনো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও প্রথম ১০০ দিনে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সরকার একটি সক্রিয়, দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ও জনমুখী প্রশাসনের স্পষ্ট আভাস দিয়েছে। যদিও অনেক কর্মসূচি এখনো প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে, তবুও রাষ্ট্রকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী করার দৃঢ় অঙ্গীকার সামনে এনেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের মতে, নির্বাচনী মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণত রাজনৈতিক ভাষণের অংশ হয়ে থাকলেও, ক্ষমতায় আসার পর তা দ্রুত বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নে তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক নির্দেশনা ও পদক্ষেপ এখন জাতীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে, কারণ এই সরকার বিশ্বাস করে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব।