ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় স্থাপিত ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু একটি বিশাল ভাস্কর্য ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা ভাস্কর্যটি পরিদর্শন করেন এবং এটি সামগ্রিকভাবে অনিরাপদ বলে ঘোষণা করেন। পরিদর্শনের পর বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাস্কর্যটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে তীব্র বাতাসে এটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে অপসারণ এবং অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধায়ক ডঃ শারদ্বত মুখার্জি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আর্জেন্টিনার এই ফুটবল কিংবদন্তির ভাস্কর্যটি আর নিরাপদ নয় এবং বাতাসে এটি দুলতে থাকায় সাধারণ মানুষের সুরক্ষার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি সরিয়ে ফেলা হবে।
একটি অত্যন্ত ব্যস্ত সড়ক এবং সাবওয়ের (ভূগর্ভস্থ পথ) একদম কাছাকাছি বিশালাকার এই ভাস্কর্যটি অবস্থিত হওয়ায় এটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া বেশ জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ বলে উল্লেখ করেছেন শরদ্বত মুখোপাধ্যায়। তবে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দ্রুততম সুযোগেই এটি অপসারণের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে ফাইবারগ্লাস ও লোহা দিয়ে নির্মিত এই বিশাল কাঠামোটিকে ভারী ও শক্ত নাইলন দড়ি দিয়ে বেঁধে সাময়িকভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচল দূরে রাখতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। মোট ৪৫ জন শ্রমিকের টানা ২৭ দিনের যৌথ পরিশ্রমে তৈরি এই বিশালাকার স্মৃতিস্তম্ভটির জন্য কর্তৃপক্ষ এখন বিকল্প উপযুক্ত কোনো জায়গা খুঁজছে।
সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির এই বিশাল ভাস্কর্যটি গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে তাঁর ‘গোট’ (GOAT – Greatest of All Time) সফরের সময় কলকাতায় স্থাপন করা হয়েছিল। মেসি নিজে তখন ভার্চুয়ালি একটি ভিডিও স্ক্রিনে যুক্ত হয়ে রিমোট কন্ট্রোলের বোতাম চেপে এটির উন্মোচন করেছিলেন, যদিও সল্টলেক স্টেডিয়ামে তাঁর উপস্থিতির সময় ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার কারণে সেই সফরটি কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল।
ফুটবল ভক্তদের চরম উন্মাদনার মাঝে তৈরি করা এই ভাস্কর্যটি মাত্র কয়েক মাসের মাথায় কাঠামোগত ত্রুটির কারণে এভাবে সরিয়ে ফেলতে হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।