Home » বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে

বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে

চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

0 comments 65 views
A+A-
Reset

রিপোর্ট: মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ
(বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের স্মৃতিচারণ)

১৯৮১ সালের ২৯ মে রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু আমাকে তাঁর কক্ষে ডেকে পাঠালে আমি কিছুটা বিস্মিত হই। কেন কেবল আমাকেই ডাকা হলো? আমি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের প্রথম তলায় তাঁর কক্ষে প্রবেশ করি; পরবর্তীতে ভবনটি শহীদ জিয়ার নামে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়।

রাষ্ট্রপতি পূর্বমুখী হয়ে বসেছিলেন, আর আমি পশ্চিমমুখী হয়ে তাঁর সামনাসামনি বসি। শহীদ জিয়ার পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও টি-শার্ট। পাশে ছোট একটি টেবিলে পানিভর্তি জগ ও একটি গ্লাস রাখা ছিল। তিনি আমার এবং আমার পরিবারের খোঁজখবর নেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাকে প্রশ্ন করেন, ‘শোন জাহাঙ্গীর, তুমি কি জানো আমি কেন বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছি?’ তবে আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে তিনি নিজেই এর জবাবে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছি ক্ষমতার জন্য নয়। আমার মূল লক্ষ্য হলো, এ দলের নেতা-কর্মীরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে’।

রাতের খাবার শেষে রাষ্ট্রপতি জিয়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সার্কিট হাউসের লাউঞ্জে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি নিজ কক্ষে ফিরে যান।

প্রায় পাঁচ মিনিট পর তিনি আবার কক্ষ থেকে বের হয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় তাঁর কক্ষে ফিরে যান।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনের অন্তিম মুহূর্ত স্মরণ করতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, ‘এগুলো হলো ১৯৮১ সালের ২৯ মে’র সেই ঘটনাবহুল ও বেদনাবিধুর রাতের বিচ্ছিন্ন কিছু দৃশ্যের স্মৃতি। কয়েক ঘণ্টা পরই বিদ্রোহী একদল সেনাসদস্য সার্কিট হাউসে হামলা চালিয়ে জিয়াউর রহমানের মতো বিরল ব্যক্তিত্বকে হত্যা করে; যিনি ছিলেন দূরদর্শী, অনন্য রাষ্ট্রনায়ক, প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং একজন মেধাবী সামরিক নেতা।’

তিনি জানান, ১৯৮১ সালের ২৯ মে সকালে রাষ্ট্রপতি জিয়া এক দিনের পূর্বনির্ধারিত সফরে কয়েকজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও শীর্ষ দলীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আসেন। এর মধ্যে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব ডা. বি. চৌধুরীও ছিলেন।

‘২৬ মে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল মাহফুজের কাছ থেকে আমি একটি ফোন পাই। তিনি আমাকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি এম. সলিমুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসে রাষ্ট্রপতি জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুরোধ জানান। পরদিন আমি ও সলিমুল্লাহ সাহেব ঢাকায় পৌঁছে রাত প্রায় ৮টার দিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিয়ার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।’ এরপর আমরা জানতে পারি, রাষ্ট্রপতি ২৯ মে চট্টগ্রাম সফরের সূচি নির্ধারণ করেছেন।

জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর চট্টগ্রাম সফরের সূচি জানতে পেরে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ, এর আগেও তিনি ১০ মে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শনে এসেছিলেন।

সেদিন আমরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাতের খাবার গ্রহণ করি।’

তিনি আরও জানান, ‘জিয়া আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জনসমাগম না করতে, এমনকি আমরাও যেন সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা না জানাই। তবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য তিনি আগেই নির্বাচিত ১০ জনের একটি তালিকা চুড়ান্ত করে রেখেছিলেন।’

আমরা চট্টগ্রামে ফিরে আসি। পরে দেখি, নির্বাচিত ওই ১০ জনের তালিকায় আমাদের দু’জনের নামও রয়েছে (আমি ও সলিমুল্লাহ)।

পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি জিয়া তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে আমরা তাঁদের অভ্যর্থনা জানাই। রাষ্ট্রপতি জিয়া তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব ডা. বি. চৌধুরী, ডা. আমেনা রহমান, সৈয়দ মহিবুল হাসান, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও ডা. এ এফ এম ইউসুফসহ অন্যান্যদের সঙ্গে সার্কিট হাউসের ওপরতলায় যান।

তিনি কিছু সময় লাউঞ্জে অবস্থান করেন এবং আমাদের সবার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কথোপকথনে অংশ নেন।

স্মৃতিচারণে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এক পর্যায়ে জিয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামে বসবাসের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।’

তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আনিস (ব্যারিস্টার আনিস), এখানে একটা জায়গা খুঁজে বের করো। আমি এই শহরে থাকতে চাই, কারণ এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি স্থান এবং আমার সবচেয়ে পছন্দের।’

২৯ মে ছিল শুক্রবার। রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রামের চারটি সুউচ্চ মিনারবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী ও অনন্য স্থাপত্যশৈলীর চন্দনপুরা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।

বিকেলে তিনি সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার নির্বাচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, জনসংখ্যা বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

জাহাঙ্গীর জানান, পরে রাষ্ট্রপতি রাতের খাবার গ্রহণ করেন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে একে একে পৃথকভাবে কথা বলেন। এরপর রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে ডেকে পাঠানো হলে তিনি রাষ্ট্রপতির কক্ষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন।

আমাকে উদ্দেশ করে জিয়া বলেন, ‘শোন জাহাঙ্গীর, আমি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছি ক্ষমতার জন্য নয়। আমার মূল লক্ষ্য হলো, এ দলের নেতা-কর্মীরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে একটি পরিক্ষীত, সংগঠিত, দক্ষ ও আদর্শবান কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সলিমুল্লাহকে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে একটি যুব সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছি, তুমি তাকে অবশ্যই সহযোগিতা করবে। আমাদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে একটি সৎ ও আদর্শ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা যাবে। তুমি এখানে উপযুক্ত একটি স্থান খুঁজে দেখো। এ বিষয়ে আমি ফিরোজ নূন (প্রয়াত অধ্যক্ষ এ, কে, ফিরোজ নূন)-এর সঙ্গে কথা বলব।’ সার্কিট হাউসের কক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়ার সঙ্গে আলাপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন জাহাঙ্গীর।

আলোচনার এক পর্যায়ে অনুমতি নিয়ে জাহাঙ্গীর রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রশ্ন করেন, ‘স্যার, আপনি কেন দলের কর্মীদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলছেন ?’

ভৌগোলিক ও কৌশলগত কিছু দিকের প্রতি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রপতি জিয়া জবাবে বলেন, ‘কারণ, আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে।’

রাত আনুমানিক দেড়টা, অর্থাৎ ৩০ মে ১৯৮১ সালের প্রথম প্রহর। ঘড়ির কাঁটা ২৯ মে পেরিয়ে নতুন দিনে প্রায় দেড় ঘণ্টা অতিক্রম করছে। সেই সময় জিয়া ও আমি তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়েছি। এবং রাষ্ট্রপতি জিয়া তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমদকে আমাদের নিজ নিজ বাসায় পৌঁছানোর জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন। গাড়িটির নম্বর ছিল ‘রাঙামাটি-১০০০’। এ সময় আমরা প্রিয় রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিই।

‘কে জানত, সেটিই ছিল রাষ্ট্রপতি জিয়ার সঙ্গে আমাদের শেষ বিদায়?’ কিছুক্ষণ নীরব থেকে দূরের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে মৃদুকণ্ঠে বলেন জাহাঙ্গীর।

জিয়ার ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দলীয় কোন্দল মেটানো- এ ধরনের প্রপাগান্ডা প্রবীণ এই রাজনীতিক স্পষ্টভাবে নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, ‘যদি তা সত্য হতো, তাহলে জিয়া উভয় পক্ষের বিরোধী গোষ্ঠী বা তথাকথিত গ্রুপ-নেতাদের ডেকে বৈঠক করতেন। বরং ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা।’

জাহাঙ্গীর দৃঢ়ভাবে বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়ার হত্যাকাণ্ড ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল (প্রয়াত) মহব্বত জান চৌধুরী রাষ্ট্রপতি জিয়াকে চট্টগ্রাম সফরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই পরামর্শ আমলে নেননি।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই কারণেই আমরা দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জিয়া হত্যাকাণ্ডের বেসামরিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিলাম। তাহলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের বিভিন্ন দিক জনসমক্ষে উন্মোচিত হতো।’

এ প্রসঙ্গে তিনি সেই রাতের একটি ঘটনাও উল্লেখ করেন। রাত প্রায় ১০টার দিকে আমরা তৎকালীন এডিসি (ডেভেলপমেন্ট) রউফ সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে সার্কিট হাউসের নিচতলায় বসেছিলাম। তখন সরকারি ল্যান্ড ফোনটি একের পর এক বাইরে থেকে আসা ফোন-কলের কারণে ক্রমাগত বেজে চলছিল। অধিকাংশ কলদাতা রাষ্ট্রপতি জিয়ার সামরিক সচিব কর্নেল মাহফুজের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, বারবার রাতের বেলায় ফোন বাজতে থাকায় আমি বিরক্ত ও সন্দিহান হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে আমি কর্নেল মাহফুজকে জিজ্ঞেস করি, কেন তাঁর কাছে এত ফোন-কল আসছে?

কর্নেল মাহফুজ কোনো উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পরবর্তী ফোন-কলগুলো ওপরতলায় স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, একবার আমি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন তিনি জিয়ার দল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন? জবাবে শাহ আজিজুর রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন অসাধারণ মেধাবী ব্যক্তি। তিনি প্রকৃত দেশপ্রেমিক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর আস্থা।’

জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ জিয়ার আজীবন অনুসারী এবং তাঁর দর্শনের দৃঢ় সমর্থক। ৭৭ বছর বয়সী প্রবীণ এই রাজনীতিক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে বাসস’কে এসব কথা বলেন।

You may also like

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: গুলজার টাওয়ার (২য় তলা), চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com