ভ্রমণে গিয়ে হোটেল রুম, ট্রায়াল রুম বা পাবলিক চেঞ্জিং রুমে হিডেন বা গোপন ক্যামেরার উপস্থিতি ইদানিং বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাধু চক্র গোপনে ধারণ করা এসব ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ব্ল্যাকমেইল বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ভুক্তভোগীদের চরম সাইবার বুলিং ও মানসিক ট্রমার শিকার বানাচ্ছে। সামান্য সচেতনতা ও কয়েকটি সহজ কৌশল জানা থাকলে যেকোনো নতুন স্থানে গোপন ক্যামেরার উপস্থিতি খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
১. খালি চোখে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
কক্ষে প্রবেশের পরপরই সন্দেহজনক বস্তুগুলো ভালো করে পরীক্ষা করুন। গোপন ক্যামেরা সাধারণত খুব ছোট হলেও তার লেন্সটি উন্মুক্ত রাখতে হয়।
- সন্দেহজনক স্থান: স্মোক ডিটেক্টর, দেয়াল ঘড়ি, এসি বা ফ্যানের গ্রিল, ইলেকট্রিক সকেট, ওয়াইফাই রউটার, টেবিল ল্যাম্প, টিস্যু বক্স, ফ্লাওয়ার ভেস এবং দেয়াল চিত্র বা ফ্রেমের পেছনের অংশ।
- মিরর টেস্ট: ড্রেসিং টেবিল বা ওয়াশরুমের আয়নায় আপনার আঙুলের শীর্ষভাগ ছোঁয়াও। যদি আঙুল এবং আয়নার প্রতিফলনের মাঝে কোনো ফাঁক বা গ্যাপিং না থাকে (সরাসরি আঙুল ছোঁয়া লাগে), তবে বুঝে নেবেন সেটি টু-ওয়ে মিরর এবং তার পেছনে ক্যামেরা থাকতে পারে।
২. অন্ধকারের স্মার্টফোন ফ্ল্যাশ টেকনিক
গোপন ক্যামেরার গ্লাস বা লেন্স আলোর প্রতিফলনে চমকে ওঠে।
- রুমের সব লাইট বন্ধ করে সম্পূর্ণ অন্ধকার করে দিন এবং জানালার পর্দা টেনে দিন।
- এবার আপনার স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন করে ঘরের প্রতিটি কোণ, স্মোক ডিটেক্টর ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দিকে তাক করুন।
- কোথাও যদি কাঁচের মতো চকচকে লাল, নীল বা সবুজ কোনো ছোট আলোর প্রতিফলন দেখতে পান, তবে সেখানে ক্যামেরা থাকার সম্ভাবনা শতভাগ।
৩. স্মার্টফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা ও নাইট ভিশন টেস্ট
অধিকাংশ গোপন ক্যামেরায় অন্ধকারে দৃশ্য ধারণের জন্য ইনফ্রারেড (IR) লাইট থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- রুমের লাইট বন্ধ করে ফোনের ফ্রন্ট (সামনের) ক্যামেরা চালু করুন (কারণ পেছনের ক্যামেরায় অনেক সময় আইআর ফিল্টার থাকে)।
- ঘরজুড়ে ফ্রন্ট ক্যামেরা ঘুরিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকান। যদি স্ক্রিনে কোনো উজ্জ্বল বেগুনি বা সাদা আলো জ্বলতে-নিভতে দেখেন, তবে বুঝে নেবেন সেখানে ইনফ্রারেড ক্যামেরা চালু আছে।
৪. মোবাইল কল টেকনিক
ক্যামেরা বা ট্রান্সমিটার থেকে অনবরত তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic Waves) নির্গত হয়।
- আপনার ফোন থেকে কাউকে কল দিন বা স্পিকার অন রাখুন।
- কল চলা অবস্থায় ফোনটি সন্দেহজনক বস্তু বা ইলেকট্রিক ডিভাইসের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান।
- যদি কলে হঠাৎ একটানা কটকট বা অস্বাভাবিক ‘নয়েজ’ শব্দ (Interference Sound) শুনতে পান, তবে নিশ্চিত হন সেখানে কোনো সিগন্যাল আদান-প্রদানকারী ডিভাইস সক্রিয় আছে।
৫. ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং
আজকাল অনেক ক্যামেরা আইপি-ভিত্তিক হয়, যেগুলো সরাসরি ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ডাটা পাঠায়।
-
- প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Fing’ বা ‘Glint Finder’-এর মতো ফ্রি নেটওয়ার্ক স্ক্যানার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
- ওয়াইফাই চালু করে স্ক্যান করলে ওই ঘরের নেটওয়ার্কে ‘IP Camera’ বা কোনো অজানা ডিভাইস কানেক্টেড আছে কি না তা সহজেই দেখা যায়।
হোটেল রুম বা চেঞ্জিং রুমে কোনো গোপন ক্যামেরা বা সন্দেহজনক ডিভাইসের অস্তিত্ব পেলে সাথে সাথে ঘরের লাইট না জ্বালিয়ে বা ক্যামেরায় হাত না দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিন অথবা নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়ি ও সাইবার ক্রাইম হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন।