পতেঙ্গার তীব্র সুপেয় পানির সংকট কি মিটবে এবার?
ওয়াসা ও ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের পিপিপি মডেলের নতুন আশার আলো
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সুপেয় পানির সংকট পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার সরবরাহের পরিমাণ মোট চাহিদার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, সেখানে নিরাপদ পানির তীব্র হাহাকার দীর্ঘদিনের। পতেঙ্গাবাসীর এই মৌলিক সমস্যা নিরসনে ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ওয়াসার সেবার মান বাড়াতে এবার এগিয়ে এসেছে সরকার ও বেসরকারি খাত।
পতেঙ্গা অঞ্চলের পানির সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার সাথে যৌথভাবে কাজ করতে যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা ‘ম্যাক্স ফাউন্ডেশন’ ও ‘ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজ’। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিতে আজ চট্টগ্রাম নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজ-এর মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তরিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজের এমডি ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস যৌথ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নিজের সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করায় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
“জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়, বরং সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা একার পক্ষে দ্রুত মেটানো কঠিন বলেই বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার নতুন সংস্কৃতি তৈরি হবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
তিন বছর মেয়াদী এই উদ্ভাবনী পিপিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ পতেঙ্গা ও উত্তর পতেঙ্গার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দ্বারে দ্বারে নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এই মডেল সফল হলে তা দেশের পানি সরবরাহ খাতে একটি নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে ইসরাফিল খসরু। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ পতেঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির দুর্ভোগ নিরসনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।