চট্টগ্রাম

ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচলের ডিজাইন সম্পন্ন

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি চট্টগ্রামের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের বিস্তারিত ডিজাইন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিটে নির্ধারিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক জানতে চান— দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,

“চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর ফলে ট্রেনের গড় গতি যেমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, তেমনি যাতায়াতের সময়ও অনেক কমে আসবে।”

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী দূরত্ব আরও কমিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের ভৌগোলিক দূরত্ব কমে যাবে।”

এছাড়া, সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশটি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং টঙ্গী-আখাউড়া অংশটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই যুগান্তকারী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা রুট হবে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও দ্রুততম যোগাযোগ মাধ্যম।

Leave a Comment

সম্পাদক: দাঊদ আরমান

অফিস: চট্টেশ্বরী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

ইমেইল: khobor24ghontabangla@gmail.com

Latest Articles

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
©
খবর ২৪ ঘণ্টা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত (২০২৪ – ২০২৬)
Registration No.: 391/2025-26

Developed BY  Netfie.com