বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির কোনো বিরোধ নেই। তবে, নির্বাচন এবং সংস্কার উভয়কেই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “সংস্কার কার্যক্রম একজন শুরু করলে অন্যজন তা এগিয়ে নিয়ে যায়। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি কোনো শেষ হওয়া বিষয় নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি বিশ্বাস করে রাজনীতির গুণগত উত্তরণ ছাড়া প্রথাগত সংস্কার অর্থহীন।
নির্বাচন ও সংস্কার প্রসঙ্গে বক্তব্য
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন একটি সময়োপযোগী প্রক্রিয়া। জনগণের ভোট ছাড়া কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। বিএনপির লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু, এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটানো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে বলেন, “আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র একে অপরের শত্রু।”
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা
তারেক রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় কমপক্ষে ছয়জন সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন। স্বৈরাচারের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে হাজারো মানুষ। তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিদের সমন্বয়ে একটি “মিডিয়া কমিশন” গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করছি, যেখানে সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া হবে না। বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে।”
সভায় বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতারা।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিইউজে যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।