চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আলোচিত আসামি ও সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন।
জামিনের প্রক্রিয়া
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহীম জানান, বাবুল আক্তারের জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে, ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার বেঞ্চ বাবুল আক্তারকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন এবং তাকে স্থায়ী জামিন কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
তবে মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আবেদনটি নিয়ে ‘নো অর্ডার’ দেন।
মিতু হত্যা মামলার পটভূমি
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের নিজাম রোডে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ঘটনার সময় তার স্বামী বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। হত্যার পর বাবুল অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে একটি মামলা করেন।
তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরবর্তীতে তদন্তে বাবুল আক্তারেরই সম্পৃক্ততা পায়। ২০২১ সালের ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নতুন মামলা করেন। সেই থেকেই বাবুল আক্তার কারাগারে ছিলেন।
তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম
প্রথম মামলায় পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে বাবুলের আইনজীবী প্রতিবেদন খারিজের আবেদন করেন। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাবুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ মামলাটিতে বাবুল আক্তারসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
বাবুলের অবস্থান
আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, বাবুল আক্তার তিন বছর সাত মাস কারাগারে থাকার পর আদালত তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা হবে।