বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বাবু বিজন কান্তি সরকার এবং মহাসচিব এস. এন তরুণ দে গত ০২ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে ভারতের উত্তর আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে উগ্রবাদীদের আক্রমণের বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি” নামক সংগঠনের সদস্যরা সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছে এবং এটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা জানান, হাইকমিশনের ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে সেটিতে আগুন দেয়া এবং ভাঙচুর করা জেনেভা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে তারা ভারত সরকার ও ভারতীয় জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান, যেন তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কৌশল হিসেবে বাংলাদেশে ঘৃণার ব্যবহার না করে। এতে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।

এছাড়াও তারা আশা ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার প্রতি ভারতীয়রা শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং যেসব নেতা বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী শাসনকালে ভারতে অবস্থান করছেন তাদের ফিরিয়ে দিয়ে বিচারের সহযোগিতা করবেন।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং নিন্দা
বাবু বিজন কান্তি সরকার এবং এস. এন তরুণ দে এ ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেন। তারা বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রতিবাদ
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া এবং সদস্য সচিব বাপ্পী দে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া বলেন, “ভারতের আগ্রাসী মনোভাব এবং সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আক্রমণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে এবং ভারতের রাজনীতির প্রতি আমাদের গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”
বাপ্পী দে বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসন এবং সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা শুধুমাত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী এবং শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।”