অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, “আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার মূল কাজ হলো, একটি শিশুকে সামাজিকীকরণ করা।” তিনি আরও বলেন, “এটাই প্রাথমিক শিক্ষার মূল কাজ এবং শিশুকে সামাজিকীকরণের বিভিন্ন উপায় রয়েছে।”
এটি তিনি বলেছিলেন বিশ্ব দর্শন দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান উত্তর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে।
লিপির গুরুত্ব
ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সেমিনারে লিপির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সভ্যতার একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে লিপি, যা মানুষের ইতিহাসকে পালটে দিয়েছে।” তিনি বলেন, আগে মানুষের অভিজ্ঞতাগুলো ব্যক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হতো, কিন্তু লিখিত ভাষার আবিষ্কারের পর মানুষের জ্ঞানের বিস্তার খুব দ্রুত হতে শুরু করে।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি
উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় একটি সার্বজনীন কারিকুলাম তৈরি করলে তা অনেক সুবিধা নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, “বেশির ভাগ দেশ যারা ভালো করছে, তাদের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সাল ইউনিফায়েড (সার্বজনীক ঐক্যবদ্ধতা) রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন স্বাধীন হই, তখন এমন একটি স্বপ্ন ছিল, কিন্তু এখন আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রায় ১৪টি ধারায় বিভক্ত। ফলে প্রাথমিক একীভূতকরণের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত হয়নি।”
দর্শন বিভাগের অধ্যাপকের বক্তব্য
সেমিনারে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের প্রথম চ্যালেঞ্জে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জে, দেশ গড়া এবং সমাজ রূপান্তর করার প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই লড়াইয়ে আমাদের দরকার সততা, নিষ্ঠা ও বুদ্ধিভিত্তিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার সফল হতে হলে মৌলিক অধিকার এবং মতাদর্শের সমন্বয় প্রয়োজন।”
রাষ্ট্র গঠনে সংকট
অধ্যাপক রায়হান রাইন আরও বলেন, “যারা সরকার গঠন করে তারা একটি উপনিবেশ স্থাপন করে, যেখানে অধিকাংশ মানুষের দেহের ওপরে উপনিবেশ স্থাপন করা হয়।” তিনি বলেছেন, “এটাই আধুনিক গণতন্ত্রের বড় সংকট, এবং এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে আমাদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসকদের বিদায় করতে হয়।”
তিনি বলেন, “দেশের ভেতরে সমাজ রূপান্তর শিক্ষা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষকে মানুষে রূপান্তর করা গেলে, আমরা হয়ত বিরোধী দলের কাউকে পিটিয়ে মারতে দেখব না এবং তার বিচার পাওয়ার অধিকার থাকবে।”
সংকট থেকে উত্তরণের পথ
ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং অধ্যাপক রায়হান রাইন উভয়েই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করবে।